রুহেল হাশেমী
এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১২:১৮ এএম
ভোরের সূর্যের রক্তিম আভা যখন পুব আকাশে নতুন সংকেত দিয়ে উঁকি দিল, তখন কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতাই ওল্টাল না, ওল্টাল একটি জাতির আবেগ আর সংস্কৃতির নতুন পৃষ্ঠা। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে আজ বাঙালির দুয়ারে এসেছে ‘পয়লা বৈশাখ’ বাংলা নববর্ষ।
সমপ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সারা বিশ্বের কোটি কোটি বাঙালি আজ মেতে উঠেছে প্রাণের উৎসবে। রাজধানীর রমনার বটমূল থেকে শুরু করে সুদূর মফস্বলের মেঠোপথ- সর্বত্র আজ বেজে উঠছে সেই চিরচেনা সুর- ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। এটি কেবল একটি ঋতু পরিবর্তন নয়, বরং এটি বাঙালির হাজার বছরের অসামপ্রদায়িক চেতনার নবায়ন এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের মহোৎসব।
ভোরের আলোয় সুরের মূর্ছনায় রমনার বটমূল : বরাবরের মতো এ বছরও নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রমনা পার্কের বটমূল। ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে ভোরের রাগে নতুন বছরের আবাহন করা হয়। কয়েক হাজার মানুষ সাদা আর লাল রঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে ভোরের স্নিগ্ধতায় সমবেত হন।
ছায়ানটের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তি, মানবতা ও সমপ্রীতি’। শিল্পী ও আয়োজকদের মতে, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা কাটিয়ে মানুষের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ফিরিয়ে আনাই নববর্ষের এই সুরের মূল লক্ষ্য। পান্তা-ইলিশের প্রথাগত খাবারের পাশে এবার প্রাধান্য পেয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নাড়ু, মোয়াএবং দেশি পিঠাপুলির সমাহার।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঐক্য, সমপ্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশবাসীর প্রতি ঐক্য, সমপ্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব, যা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষকে একত্রিত করে।
রাষ্ট্রপতি বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানিয়ে দেশের মানুষসহ বিশ্বের সব বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসব আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। বৈশাখের আগমনে মানুষের মনে জাগে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন এবং এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
বাণীতে তিনি বলেন, অতীতের দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয় বাংলা নববর্ষ। একই সঙ্গে এটি অসামপ্রদায়িক চেতনা, সহনশীলতা ও সামাজিক সমপ্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত। রাষ্ট্রপতি সামপ্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার জনকল্যাণমুখী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষভাবে তিনি কৃষি খাতের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের ধারাবাহিকতায় বাংলা সনের যাত্রা শুরু হয়। সেই ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে নববর্ষে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সংযম, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। সবশেষে তিনি কামনা করেন, নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক এবং দেশ এগিয়ে যাক ঐক্য ও সমপ্রীতির পথে।
পয়লা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী
বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই উৎসব বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পয়লা বৈশাখ নতুন বছরের সূচনায় মানুষকে পুরোনো গ্লানি ভুলে নতুন আশা ও সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বিদায় ১৪৩২, স্বাগত ১৪৩৩। তার ভাষায়, বাংলা নববর্ষ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও কৃষকরা প্রকৃতির ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা এই দিনের ঐতিহ্যগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। তিনি আরও বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো আয়োজনগুলো বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরে। এসব আয়োজন সমাজে ঐক্য, সমপ্রীতি ও সম্মিলিত চেতনা জাগিয়ে তোলে। নববর্ষ মানুষের মনে নতুন প্রত্যাশা ও উদ্দীপনার সঞ্চার করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী সামপ্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
বিশেষভাবে তিনি ঘোষণা দেন, নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবশেষে তিনি দেশবাসীকে সংকীর্ণতা পরিহার করে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান এবং নতুন বছরে সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
মঙ্গল শোভাযাত্রা- ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বাঙালির গর্ব : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে সকাল ৯টায় বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা-২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে এই শোভাযাত্রা বৈশ্বিক আবেদন পেয়েছে।
এবারের শোভাযাত্রার থিম এবং মোটিফগুলোতে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। বিশালকায় বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা ও শিশুর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে বাঁশ, কাঠ আর রঙিন কাগজ দিয়ে। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তা হলো- অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা করা। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের মেরুদণ্ড। এটি কোনো ধর্মের উৎসব নয়, এটি বাঙালির বেঁচে থাকার উৎসব।’
‘শ্রেণি-পেশার গণ্ডি পেরিয়ে এক মহামিলন : পয়লা বৈশাখের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর সর্বজনীনতা। আজ কোনো বিভেদ নেই। ব্যবসায়ী সমাজ: রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে আজ পালিত হচ্ছে ‘হালখাতা’, লাল মলাটের নতুন খাতায় পুরনো দেনা চুকিয়ে নতুন করে শুরু হচ্ছে বাণিজ্যিক যাত্রা। গ্রাহকদের মিষ্টি ও নিমকি দিয়ে আপ্যায়ন করার দৃশ্যটি ছিল মুগ্ধকর। কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ: রিকশাচালক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা- সবার শরীরেই আজ দেখা গেছে উৎসবের ছোঁয়া। পোশাকের রঙে বৈচিত্র্য থাকলেও সবার লক্ষ্য ছিল এক- একটু আনন্দ ভাগ করে নেয়া। শিক্ষার্থী ও শিশু-কিশোর: নতুন প্রজন্মের শিশুদের কপালে আঁকা আল্পনা আর হাতে নাগরদোলার বাঁশি প্রমাণ করে যে, শেকড়ের টান ফুরিয়ে যায়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় আয়োজিত হয়েছে বৈশাখী মেলার ক্ষুদ্র সংস্করণ।
রাজধানীতে বর্ষবরণের ৯টি মেগা আয়োজন : ১. রমনা বটমূল ও ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। ২. চারুকলার আনন্দ শোভাযাত্রা। ৩. রবীন্দ্র সরোবরে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’।
ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’। ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে কয়েকশ শিল্পী গান পরিবেশন করবেন। বিশেষ আকর্ষণ: রফিকুল আলম, কিরণ চন্দ্র রায় ও কোনালসহ প্রথিতযশা শিল্পীদের পরিবেশনা। এছাড়া থাকছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা ও নাগরদোলা।
যাত্রাবিরতির বৈশাখী উৎসব : রাজধানীর বনানীতে দুই দিনব্যাপী (১৩ ও ১৪ এপ্রিল) সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন করেছে ‘যাত্রাবিরতি’। এখানে মিলবে বাউলগান, পুতুলনাচ আর বায়োস্কোপের দেখা। টিকিট: ৫০০ টাকা। আজ গান গাইবে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘সোনার বাংলা সার্কাস’।
আর্কা বৈশাখ ১৪৩৩ (আলোকি, গুলশান) : গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডের ‘আলোকি’ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হচ্ছে ‘আর্কা বৈশাখ’। মেলা, খেলাঘর, ভোজনালয় ও কালেকটিভ মঞ্চ- এই চার ভাগে বিভক্ত এই আয়োজনে আধুনিক ও লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে। ব্যান্ড পারফরম্যান্স: কার্নিভ্যাল, রকসল্ট ও ফিরোজ জং। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ‘আলোকি’র ওয়েবসাইটে।
বাংলা একাডেমি ও বিসিক বৈশাখী মেলা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিসিক ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী (১৪-২০ এপ্রিল) বৈশাখী মেলা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে। এখানে নকশিকাঁথা, মাটির পণ্য এবং হস্তশিল্পের বিশাল সমাহার রয়েছে।
লাল বৈশাখী (কামাল আতাতুর্ক পার্ক, বনানী) : বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে ‘রিশকা কানেক্টস’ আয়োজন করেছে ‘লাল বৈশাখী’। এই উৎসবে থাকছে গ্রামীণ খেলাধুলা যেমন- বালিশ খেলা ও মিউজিক্যাল চেয়ার। কনসার্ট: হাবিব ওয়াহিদ, রেনেসাঁ ও নেমেসিস ব্যান্ডের সুরের মূর্ছনায় মাতবে বনানী। টিকিটের মূল্য ৩০০ টাকা।
এসএমই বৈশাখী মেলা (আগারগাঁও) : বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। ৩০০টিরও বেশি স্টলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিনোদন: বানর খেলা ও টিয়া পাখির খেলা থাকছে শিশুদের জন্য। প্রবেশ মূল্য মাত্র ৩০ টাকা।
উৎসবে বৈশাখ ও প্রথম আলো বৈশাখী উৎসব (মাদানী অ্যাভিনিউ) : ভাটারার শেফস টেবিল কোর্টসাইডে চলছে জোড়া আয়োজন। প্রথম আলো বৈশাখী উৎসব: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত এই অনুষ্ঠানে থাকছে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পাপেট শো ও জাদু প্রদর্শনী। উৎসবে বৈশাখ: বিকেলে শুরু হবে জমকালো কনসার্ট। এখানে আলপনা আঁকা ও বাউল গানের বিশেষ আসর বসবে।
তৃণমূলের বৈশাখ, গ্রাম বাংলার মেলা : শহুরে কোলাহলের বাইরে গ্রামীণ জনপদে পয়লা বৈশাখ আসে এক ভিন্ন মহিমায়। গ্রামীণ মেলাগুলোয় মাটির তৈরি খেলনা, তৈজসপত্র, বাঁশের বাঁশি, কাঠের কাজ এবং নানা পদের খাবারের পসরা সাজানো হয়েছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা যেমন- বলিখেলা, লাঠিখেলা এবং হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলিখেলা ঘিরে মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে।
প্রযুক্তির বৈশাখ ও বিশ্বায়ন : ২০২৬ সালের এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে পয়লা বৈশাখ কেবল অফলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বৈশাখী শুভেচ্ছা আদান-প্রদান এবং ভার্চুয়াল আড্ডার মাধ্যমে প্রবাসে থাকা বাঙালিরাও যুক্ত হয়েছেন এই উৎসবে। নিউ ইয়র্ক, লন্ডন থেকে শুরু করে সিডনি- সবখানেই বাঙালির জয়গান প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা : এত বড় গণজমায়েত নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে উৎসব পালন করতে পেরেছেন। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল উৎসবস্থলগুলো।
আগামীর প্রত্যাশা : পয়লা বৈশাখ বাঙালির সাম্য আর অসামপ্রদায়িক চেতনার প্রতীক। আজ মানুষ শপথ নিয়েছে সংকীর্ণতা আর ধর্মান্ধতাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। সূর্যের তেজ যেমন প্রকৃতির ধুলোবালি ধুয়ে দেয়, পয়লা বৈশাখও তেমনি বাঙালির মনের কালিমা মুছে দিয়ে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে। সবশেষে, রবীন্দ্রনাথের সেই অমোঘ বাণীতেই বলা যায় ‘পুরানো যা-কিছু ছিল যাক মুছে যাক, নতুন আসুক নতুনকে দিন ডাক।’
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!
বাঙালির এই ঐক্য আর আনন্দ অটুট থাকুক বছরের প্রতিটি দিন।