ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

সাইবার অপরাধের নতুন চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ৩, ২০২৬, ১২:২৫ এএম

সাইবার অপরাধের নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে অপরাধীরা এখন আর ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামে না; তারা এখন আঙুলের ডগায় স্মার্টফোন নিয়েই অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। দেশে গত কয়েক বছরে সাইবার অপরাধের গ্রাফ উদ্বেগজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। ফিশিং লিংকের ফাঁদে পড়ে হ্যাকিং, ওটিপি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করা, এআই-জেনারেটেড ন্যুড ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেলিং এবং ই-কমার্স প্রতারণা সব মিলিয়ে পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলোতে প্রতিদিন জমা হচ্ছে শত শত অভিযোগ।

অভিযোগের এই পাহাড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সেবার অভাব ও জনবলের সীমাবদ্ধতায় ভুক্তভোগীরা যথাযথ প্রতিকার পাচ্ছেন না।

বর্তমানে সাইবার অপরাধের ধরন প্রথাগত অপরাধকে পেছনে ফেলেছে। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের ডাটা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বড় ভয়ের চিত্র ফুটে ওঠে।

১. এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার: এখন কেবল ছবি এডিট নয়, বরং এআই ব্যবহার করে মানুষের মুখাবয়ব ও কণ্ঠ নকল করে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারীরা এসব অপরাধের বড় শিকার। ২. ফিশিং লিঙ্ক ও হ্যাকিং: মেসেঞ্জারে বা হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিঙ্কে ক্লিক করলেই স্মার্টফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে। এরপর শুরু হচ্ছে ব্ল্যাকমেইলিং বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি। ৩. আর্থিক প্রতারণা: ওটিপি চুরির মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা এখন ডালভাত। ৪. সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল ও বুলিং: ফেসবুক, ইমো বা হোয়াটসআপ আইডি হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে হেনস্তা করার ঘটনা প্রতিদিনের নিয়মিত চিত্র।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত পাঁচ মাসে ৯ শতাধিক সাইবারসংক্রান্ত জিডি জমা পড়েছে। এই পরিসংখ্যানেই বোঝা যায় সাইবার অপরাধের বিস্তৃতি কতটা ভয়াবহ— বিকাশ প্রতারণায় ২২০টি অভিযোগ। টেলিগ্রাম আর্থিক প্রতারণায় ২৩৭টি অভিযোগ। ফেসবুক প্রতারণায় ১৫০টি অভিযোগ। সাইবার বুলিংয়ে ১৩০টি অভিযোগ। ফেসবুক ও জিমেইল হ্যাকিংয়ে ৯৮টি অভিযোগ। হারানো মোবাইল উদ্ধার ও আইডি রিকভারি: ৭০টি অভিযোগ।

এই বিপুলসংখ্যক অভিযোগের বিপরীতে সফলভাবে আইডি উদ্ধারের হার অত্যন্ত নগণ্য। ডিবির সাইবার টিম ১৫টি ফেসবুক আইডি ও ৭টি জিমেইল আইডি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, একবার তথ্য চুরি হয়ে গেলে তা উদ্ধার করা বা অপরাধীকে ধরা কতটা চ্যালেঞ্জিং।

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের ঢাকা মহানগরীর ভেতরে বিশেষায়িত কিছু ইউনিট থাকলেও সারা দেশে এই সেবার পরিধি এখনো খুবই সীমিত। ডিবি ও সাইবার ইউনিটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাইবার অপরাধীদের চেয়ে প্রযুক্তিগতভাবে অনেক সময় তারা এক ধাপ পিছিয়ে থাকেন। দক্ষ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সাইবার নিরাপত্তাকর্মীর বিশাল অভাব রয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সাইবার অপরাধী যদি দেশের বাইরে থেকে ভিপিএন বা ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে অপরাধ করে, তবে স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ছোট থানা বা সাইবার ইউনিটের পক্ষে তা মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে এখনো সাইবার সেবার কোনো দৃশ্যমান কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ বর্তমানে ‘রিকভারি রেঞ্জার টিম’ গঠন করেছে এবং সচেতনতামূলক প্রচারণায় জোর দিচ্ছে। ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের ডিসি মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা সাইবার অপরাধ দমনে প্রতিটি ভুক্তভোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজ রয়েছে এবং হটলাইন নম্বর ০১৩২০২০২০২০-এ ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। আমরা ভুক্তভোগীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি।’

পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে, অপরিচিত কোনো লিঙ্কে ক্লিক না করতে, ওটিপি কাউকে না দিতে এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখতে।

সাইবার অপরাধের এই বিশাল ঢেউ মোকাবিলায় কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত সচেতনতার অভাবই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। অপরাধীরা নতুন নতুন কৌশলে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে, আর নাগরিকরা সেই ফাঁদে পা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্কুল-কলেজের কারিকুলামে সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানো জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি জেলায় সাইবার ল্যাব বা ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

Link copied!