নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
মেট্রোরেল নির্মাণকাজের জন্য দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ফার্মগেটের শহীদ আনোয়ারা উদ্যান। নির্মাণকাজ শেষে উদ্যানটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার বিকেলে আনোয়ারা উদ্যানে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের হাতে পার্কের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “আজ থেকে ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যান সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই পার্কটি এখন থেকে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে পারবেন। উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে অনেক সময় পার্ক ও জলাধার সাময়িক ব্যবহৃত হলেও তা পুনরুদ্ধার করা সহজ হয় না। তথাপি নগরবাসীর স্বার্থে এসব স্থান আবার সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এই উদ্যানের চারপাশ দিয়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে এবং খুব দ্রুতই আমরা কাজ শুরু করব। অন্তত যেন রাত ১০টা পর্যন্ত মাঠটি খোলা রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব।”
তিনি আরও বলেন, শহরের যেসব পার্কে সর্বসাধারণের প্রবেশের ওপর বিভিন্নভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল সেগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব গণপরিসর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল, সেগুলোকে পরিষ্কার করে পুনরায় নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, আনোয়ারা উদ্যান এলাকায় মেট্রোরেলের প্রকল্প কাজ শেষ হয়েছে। আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মাঠে থাকা সকল স্থাপনা সরিয়ে ফেলে এলাকাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের এক করুণ স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজধানীর ফার্মগেটের এই শহীদ আনোয়ারা উদ্যানের নাম। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরুর পর থেকে এখানে নির্মাণসামগ্রী রাখার কাজে ব্যবহার করত মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। এই কারণে উদ্যানটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল।
ফার্মগেটের উদ্যানের এই জায়গাটি মূলত গণপূর্ত অধিদপ্তরের, তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের দায়িত্ব ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের। অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে মেট্রোরেলের প্রকল্প অফিস ও নির্মাণ উপকরণ রাখার কাজে ব্যবহারের জন্য উদ্যানটি জনগণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ৭ বছর পর শুক্রবার উদ্যানটি পুনরায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হলো।
ইএইচ