আমার সংবাদ ডেস্ক
এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
পয়লা বৈশাখে রাজধানীর রমনা পার্কে পান্তা-ইলিশ উৎসবকে ঘিরে একসময় যে উৎসবমুখর অস্থায়ী দোকানগুলোর দৃশ্য দেখা যেত, এবার সেই চিরচেনা চিত্রে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার রমনায় পান্তা-ইলিশ বিক্রির আয়োজন প্রায় অনুপস্থিত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষবরণের দিনে ঢাকাবাসীর অন্যতম আকর্ষণ রমনা পার্কে এবার কোনো অস্থায়ী পান্তা-ইলিশের দোকান বসেনি। ফলে উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা আগের মতো খোলা আকাশের নিচে পান্তা-ইলিশ উপভোগের সুযোগ পাননি।
তবে পার্কের ভেতরে থাকা স্থায়ী একটি রেস্টুরেন্টে পান্তা-ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে ছোট আকারের ইলিশের এক টুকরো, কিছু পান্তা ভাত এবং এক টুকরো বেগুন ভাজি দিয়ে সাজানো প্যাকেজের দাম রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ওয়ান টাইম প্লেট।
এই দামকে ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, পান্তা-ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। উৎসবের আনন্দ রাখতে বাধ্য হয়েই অনেকে অতিরিক্ত দামে খাবার কিনছেন।
এ বছর রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ কম, দাম বেশি এবং মার্চ-এপ্রিলে অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় অস্থায়ী দোকানগুলো বসেনি।
রমনার ওই রেস্টুরেন্টের কর্মীরা জানান, তারা প্রায় ৫০০ গ্রামের মতো ইলিশ মাছ সংগ্রহ করেছেন। সেই মাছের ছোট অংশ, সঙ্গে পান্তা ভাত ও বেগুন ভাজি মিলিয়ে একটি প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। মাছের দাম বেশি হওয়ায় প্যাকেজের দামও তুলনামূলক বেশি নির্ধারণ করতে হয়েছে বলে তারা জানান।
সব মিলিয়ে এবারের পয়লা বৈশাখে রমনার পান্তা-ইলিশ আয়োজন আগের মতো জমজমাট না থাকায় উৎসবপ্রেমীদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এএন