আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ২৭, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন বাসযাত্রী নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল ৬টার দিকে পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনের আরেকটি বাসে সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার শিকার ঘাতক বাসটি 'ইসলাম পরিবহন' এবং ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বাসটি 'আকাশ পরিবহন' বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর ওই এলাকার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখী সাধারণ যাত্রীরা।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার আ. রশিদ জমাদ্দারের ছেলে কবির জমাদ্দার (৪৭), তাঁর স্ত্রী লাইজু বেগম (৩৮), একই এলাকার সুলতান ফরাজির মেয়ে খুশি বেগম (৩৫) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিবরের ছেলে মো. রবিউল (২২)।
ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন জানান, নর্দ্দা এলাকার সড়ক ঘেঁষে একটি বাস কাউন্টার থাকায় সেখানে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় ছিল। পটুয়াখালী থেকে আসা ইসলাম পরিবহনের দূরপাল্লার বাসটি শুরু থেকেই অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে আসছিল। নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং বাসটি রোড ডিভাইডারের ওপর তুলে দেন।
ডিভাইডার ভেঙে বাসটি বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী 'আকাশ পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাসকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আকাশ পরিবহনের বাসটি ছিটকে অনেকটা দূরে সরে যায় এবং দুমড়েমুচড়ে যায়। গুলিস্তানগামী ওই বাসটিতে যাত্রীদের ভিড় বেশি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। ঘটনাস্থলেই এক নারী মারা যান এবং পরবর্তীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
দুর্ঘটনা কবলিত ইসলাম পরিবহনের বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পটুয়াখালী থেকে রওনা হওয়ার পর থেকেই চালক পুরো রাস্তায় অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা বারবার গতি কমানোর অনুরোধ করলেও চালক ও হেল্পার তা শোনেননি, উল্টো তারা পুরো রাস্তায় যাত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত অবাধ্য আচরণ এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসের চালক ও হেল্পার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড্ডা ও ভাটারা থানা পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত ১০ থেকে ১২ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভাটারা থানার এসআই হাবিব জানান, রেকার দিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং পলাতক চালক ও হেল্পারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এএন