আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ২, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গত মাসের শুরুতে বসানো হয়েছে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা। সড়কে নৈরাজ্য কমাতে চালু করা বিশেষ এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নাগরিকরা যেমন উপভোগ করছেন, তেমনি একে পুঁজি করে একটি চক্র প্রতারণার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করছে যানবাহন মালিকদের। কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সরকারি ওয়েবসাইট নকল করে ভুয়া এসএমএস পাঠিয়েই মূলত যানবাহন মালিকদের ফাঁদে ফেলছে এই চক্র। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এসব এসএমএসে নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানার ভয় দেখানো হচ্ছে।
প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে টার্গেট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। এরপর তাদের মোবাইলে bspbrtcar-payfeebd.icu নামের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক পাঠায়। বার্তায় দাবি করা হয়, রাস্তায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর সময় এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিংকে ক্লিক করলেই বিআরটিএর আসল ওয়েবসাইটের হুবহু আদলে তৈরি একটি নকল ওয়েবসাইটে (ক্লোন সাইট) প্রবেশ করেন। সেখানে জরিমানা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহারের অপশন রাখা হয়েছে। ভুয়া ওই ওয়েবসাইটে গ্রাহকদের দ্রুত ফাঁদে ফেলতে এবং বিশ্বাস অর্জন করতে মোট জরিমানার ওপর ৫০ শতাংশ ছাড়ের লোভনীয় প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে চক্রটি।
প্রতারক চক্রের এমন অভিনব প্রতারণার বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. হাবীবুর রহমান জানান, মামলা বা জরিমানা আদায়ের বিষয়টি সরাসরি তাদের এখতিয়ারে নেই। তবে সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। তারা এ ধরনের ভুয়া মেসেজ তৈরি করেছে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরপরই যাচাই করেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি যে এটি সম্পূর্ণ ফেক। জনগণকে কোনোভাবেই এসব মেসেজে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতারণার এই অভিনব তৎপরতা ঠেকাতে এরই মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকেও গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এআই মামলার জরিমানার তথ্য গ্রাহকদের জানাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্দিষ্ট দুটি নম্বর থেকে বার্তা পাঠানো হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই নম্বরের বাইরে অন্য কোনো নম্বর বা লিংক থেকে পাঠানো বার্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জেএইচআর