community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪,

বরিশালে ফুটপাত ও সৌন্দর্যবর্ধন হকারদের দখলে

আরিফ হোসেন, বরিশাল ব্যুরো

আরিফ হোসেন, বরিশাল ব্যুরো

নভেম্বর ১৮, ২০২৩, ০১:৫৭ পিএম


বরিশালে ফুটপাত ও সৌন্দর্যবর্ধন হকারদের দখলে

বরিশাল নগরীর বেশীরভাগ ফুটপাত দখল করে আছে অবৈধ দোকানপাট ও বিভিন্ন হকাররা। যেখানে হকার নেই সেখানে আছে মোটরসাইকেল নয়তো ঢাকনাহীন ম্যানহোলের মৃত্যু ফাঁদ। 

বিশেষ করে নগরীর চৌমাথা-নবগ্রাম রোডের লেকের চারপাশে অসংখ্য দোকানপাট নষ্ট করে দিয়েছে সড়কের সৌন্দর্য। এখানে সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ এই হকারদের উৎপাত বলে অভিযোগ ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। আর নগরীর বড় বাজার ও কাটপট্টি এলাকায়তো ফুটপাত বলে কিছু অবশিষ্ট নেই বলে জানান এলাকাবাসী। 

বর্তমানে ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোট সড়ক রয়েছে ৫১৩ কিলোমিটার। নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় শহরের আশেপাশের ৬০ ভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। আর শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রায় সব সড়কের ফুটপাত দখল করে আছে বিভিন্ন ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আগের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠেলে নতুন নতুন দোকানপাট তৈরি হচ্ছে এখন ফুটপাতে। চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। আর এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা হকারদের বসিয়ে ফুটপাত বাণিজ্যের সাথে জড়িত খোদ সিটি করপোরেশন, আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশ প্রশাসন নিজেরাই। 

নগরী ঘুরে দেখা যায়, নগরীর আমতলা মোড়ের পানির ট্যাংক স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতেই তৈরি হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ এর  ১৩ নং ওয়ার্ড কার্যালয়। পাশেই নার্সারি সাজিয়ে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আটকে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমতলা মোড় থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত ফুটপাত এতো সরু যে পাশাপাশি দুজন চলার উপায় নেই। এর উপর পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা মনোহরী দোকানের মালামাল রাখা আছে ফুটপাতে। সদর রোড জেলখানা মোড় থেকে বিবির পুকুর পাড় হয়ে ফজলুল হক এভিনিউর সিটি করপোরেশন ভবন পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে অসংখ্য বাণিজ্যিক পসরা সাজানো আছে। রয়েছে মোটরসাইকেল পার্কিং এই ফুটপাতের উপর। পোর্টরোড, লঞ্চঘাট, হেমায়েত উদ্দিন সড়ক, চকবাজার, কাটপট্টির এলাকার ফুটপাত পুরোটাই দখল করে চলছে হকারদের অবৈধ দোকানপাট। 

এসব সড়কে চলাচলে পথচারীদের দুর্দশা দেখেও না দেখার ভান করে আসছে  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধানে ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসকারী জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। ৩০টি ওয়ার্ডের আওতায় নগরীর মোট সড়কের পরিমান ৫৯৩ কিলোমিটার। এরমধ্যে পিচ ঢালাই সড়কের আয়তন ২৬৭ কিলোমিটার। সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিলো, বেহাল সড়কের পরিমান মাত্র ৮৫ কিলোমিটার। আর ফুটপাতে কোনো সমস্যা নেই। 

যদিও নগরবাসী বলছেন, এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি। বলা চলে পাকা সড়কের এক-তৃতীয়াংশ সড়কই বেহাল। যদিও শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কিছুদিন পরপরই পিচ ঢেলে সংস্কার করা হয়েছে। তবে তা কোনোটাই মাস তিনেকের বেশি স্থায়ী হয়নি। যার অনন্য উদাহরণ এই মুহূর্তে বাংলা বাজার ও খান বাহাদুর সড়ক। এই সড়কের মাঝখানে ইতিমধ্যেই চটলা ওঠা ও গর্ত তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে সিটি করপোরেশন ভবনের সামনে থেকে সড়কের সব বাক ও ফুটপাত এতোদিন যেন স্থায়ীভাবে হকারদের দখলেই ছিলো। 

তবে বৃহস্পতিবার নগর ভবনের সামনে কোনো হকার দেখা যায়নি। বিকেল তিনটার পর থেকে নগরীর নবগ্রাম রোড চৌমাথা লেক ও চৌমাথা বাজার এলাকায় হকার ও অবৈধ পার্কিং এর কারণে এই অবরোধ ও হরতাল সময়েও বিশাল যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এখানে লেকের চারপাশে প্রায় শ-দেড়েক অবৈধ দোকানপাট সাজানো রয়েছে। কিছু বন্ধ, বাকী সবই চা, সিঙ্গারা, ছোট পুড়ি, চটপটি ইত্যাদি খাবারের দোকান। এসব দোকানের বেশিরভাগ ভাড়া দেওয়া হয়েছে দুই হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকায়। তবে ব্যবসায়ীদের কয়েকজন দাবী করেন, এটি ২১ নং ওয়ার্ড এর আওতাধীন এলাকা। তারা নিজেরাই স্থানীয় কাউন্সিলর সাঈদ আহমেদ মান্নার অনুমতি নিয়ে এই পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এজন্য শুধু বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় তাদের। আর কোনো টাকা-পয়সা কেউ নেয়না বলে জানান ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। বলেন, পেটের দায়ে ফুটপাতের পাশে সড়কে ব্যবসা করি, না করলে আমরা যে না খেয়ে মরবো। তবে এখানে কিছু কিছু দোকান বসাতে রীতিমতো বড় অংকের জামানতও দিতে হয়েছে বলে জানা গেল অনুসন্ধানে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, শুধু সরকার দলীয় প্রভাবশালীরই নয়, এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসন যৌথভাবেই এই ফুটপাত দখল বাণিজ্য করছে। চৌমাথা লেক এলাকা ছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় প্রতিটি সড়কের ফুটপাত, বেলস পার্ক বা বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মডেল স্কুল সংলগ্ন দোকানপাট সবই  তারা ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে। এতে জনগণ ভোগান্তির শিকার হলেও প্রশাসন তো দেখবেন না এটাই স্বাভাবিক বলে জানান বরিশালের সুশীল সমাজের অনেকেই। সামাজিক আন্দোলনের নেতা ও বরিশাল সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি  নাট্যকার নজমুল হোসেন আকাশ বলেন, সন্ধ্যার পর বরিশালের সড়কে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে যায় এই হকারদের উৎপাতে। 

এছাড়াও বিভিন্ন সড়কে রাস্তার উপর মোটরসাইকেল রাখা কিম্বা ফুটপাতের ম্যানহোলের ঢাকনা ভাঙা বা সরিয়ে রাখার কারণেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে। জেলখানা মোড় থেকে সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন সড়ক, পোর্ট রোডের পুরোটাই হয় হকার নয়তো রাস্তার উপর রাখা ইজিবাইক, অটোরিকশা ও  মোটরসাইকেল দখল করে রাখছে ঘন্টার পর ঘন্টা। সদর রোড ও বাংলা বাজার এলাকা থেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার  নগরীর বাইরে সরিয়ে নিলে ফুটপাত দখল ও যানজট অনেকটা কমে যাবে বলে আমার সংবাদকে জানান সুজন বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম। 

এনিয়ে নিয়মিত ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিবাদ করছেন সামাজিক আন্দোলনের নেতা কাজী মিজানুর রহমানও। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভ‚মিকা গ্রহণ করা না গেলে দুর্ঘটনা ও যানজট বাড়তেই থাকবে। চলার পথে হকার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্রেতাদের যে ভিড় এর মাঝে চলাচল করা সত্যিই কঠিন। 

তিনি আরো বলেন, আশাকরি বরিশালের নতুন মেয়র আবুল খায়ের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।  বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম তানভীর আরাফাত আমার সংবাদকে জানালেন, খুব সম্ভব বরিশালবাসীর দুর্ভোগ অচিরেই কেটে যাবে। নতুন মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ইতিপূর্বেই আমাদের সাথে শহরের নিরাপত্তা ও দুর্ভোগ কমাতে বৈঠক করেছেন। 

তিনি অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রশস্তকরণ, ইজিবাইক ও অটোরিকশার অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বাইপাস সড়কসহ আমাদের সুপারিশগুলো গ্রহণ করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন দ্রæত এগুলো নিয়ে কাজ শুরু করবেন তিনি। এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ দায়িত্ব নিয়েই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি নগরভবনের আশেপাশের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং বিসিসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাকে কয়েকটি দিন সময় দিন। সব ঠিক করে দেব ইনশাআল্লাহ।

বরিশালের বিভিন্ন সড়কে এখনও জলাবদ্ধতা

ঘূর্ণিঝড় ‍‍`মিধিলি‍‍`র প্রভাবে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে বরিশাল নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জলাবদ্ধতার এ চিত্র দেখা গেছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে বটতলা থেকে চৌমাথা, বগুড়া রোডের একাংশ, পলাশপুরসহ বিভিন্ন অলিগলিতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। 

এছাড়া নগরীর চৌমাথা সিএন্ডবি রোড সংলগ্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিপিপি), শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এদিকে রাস্তা ঘাট জলাবদ্ধতার কারনে অনেকে এখনও ঘর থেকে বের হতে পারছেনা।

আরএস

 

 

 

 

Link copied!