মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
অক্টোবর ৭, ২০২৫, ০৫:২৭ পিএম
মাগুরায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলার তরুণদের দক্ষ, আত্মনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে নানামুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
জেলা কার্যালয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চারটি উপজেলায় একযোগে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন জেলার শত শত যুবক-যুবতী।
জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় ৮টি ব্যাচে মোট ২৮৫ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জেলার চারটি উপজেলায় প্রতিটি উপজেলায় ১৪টি ব্যাচে ৪২০ জন করে মোট ১,৬৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী চলতি অর্থবছরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে।
জেলা কার্যালয়ে ছয় মাস মেয়াদি ৪টি, তিন মাস মেয়াদি ১টি এবং এক মাস মেয়াদি ২টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তিন মাস মেয়াদি আবাসিক কোর্স চালু রয়েছে।
এছাড়া ছয় মাস মেয়াদি বেসিক কম্পিউটার কোর্সে ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী জুলাই মাস থেকে অংশ নিচ্ছেন, যা ডিসেম্বরের শেষে শেষ হবে। তিন মাস মেয়াদি পোশাক তৈরির অনাবাসিক কোর্সে অংশ নিচ্ছেন ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী। একইভাবে এক মাস মেয়াদি ইয়ুথ কিচেন ও ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে ৫০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। দেশের ৪৮ জেলার ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় মাগুরাতেও ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
“তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ,” জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইলিয়াসুর রহমান দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন।
তিনি জানান, “চারটি উপজেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ অত্যন্ত ইতিবাচক। এই প্রশিক্ষণ তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করবে।”
শ্রীপুর উপজেলার প্রশিক্ষণার্থী রুবিনা আক্তার বলেন, “পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছি। আগে এই সুযোগ ছিল না, এখন নিজেই কিছু করার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি।”
মহম্মদপুরের প্রশিক্ষণার্থী আব্দুল কাদের বলেন, “হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। এতে নিজের উদ্যোগে খামার করার সাহস পাচ্ছি।”
স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতে, প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। শালিখা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন দিক খুলে দিচ্ছে। আগে যেখানে অনেকেই কাজের অভাবে শহরমুখী হতো, এখন তারা নিজ এলাকায়ই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।”
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রশিক্ষণ শুধু কর্মসংস্থানের পথ খুলছে না, বরং তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাও তৈরি করছে। কৃষি, প্রাণিসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং—এই চার খাতে একসঙ্গে কার্যক্রম চালানোর ফলে জেলার অর্থনীতিতে নতুন গতি আসছে। জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণ করলে ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগও থাকবে।
উপপরিচালক মো. ইলিয়াসুর রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মাগুরাকে দক্ষ মানবসম্পদের জেলায় পরিণত করা। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
মাগুরায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ এখন জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সফল উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যম, যারা এখন কেবল চাকরির সন্ধানেই নয়, বরং নিজে কিছু করার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসছেন।
ইএইচ