মো. নুরুল আমিন (নুর), খুলনা
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ০৮:৫৪ পিএম
খুলনা বেতারের তালিকাভুক্ত সকল শ্রেণীর শিল্পীবৃন্দ অতি দ্রুত খুলনা কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু করার দাবিতে মানববন্ধন শেষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে বেতার কেন্দ্রটি ভয়াবহভাবে ধ্বংস হওয়ার পর থেকে প্রায় তিন হাজার শিল্পী মানবেতর ও বেকার জীবন যাপন করছেন।
গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠ, নাট্য, যন্ত্র শিল্পী, ঘোষক-ঘোষিকা, সংবাদ পাঠক-পাঠিকা, কথক-কথিকা এবং নাট্যকার সহ মোট প্রায় তিন হাজার শিল্পী ও তাদের পরিবারের কয়েক হাজার সদস্য চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিল্পীরা তাদের হতাশা তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে খুলনা বেতারের দুটি স্টুডিও কোনোমতে চালু থাকলেও অর্থের অভাবে শিল্পীরা কোনো অনুষ্ঠান করতে পারছেন না। মানববন্ধনে শিল্পীরা বলেন, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে খুলনা বেতারে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ এসেছিল, তা থেকেও একটি বড় অংশ কর্তন করে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার কারণ তাদের কাছে অজানা।
মানববন্ধনে শিল্পীরা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস পূর্বে চলতি দায়িত্বে থাকা আঞ্চলিক পরিচালক প্রধান কার্যালয়ে ৫০ লক্ষ টাকা পুনঃবরাদ্দ চেয়ে পত্র দিলেও তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। শিল্পীরা আরও বলেন, এই বিষয়ে তারা পূর্বে তথ্য উপদেষ্টা বরাবর এবং ডিজি মহোদয়কে আবেদন জানালেও আজ পর্যন্ত কোনো উত্তর বা সমাধান পাননি। ৫ই আগস্টের ধ্বংসযজ্ঞে খুলনা বেতারের শিল্পীদের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করেন।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, কর্তন করে কেটে নেওয়া অর্থ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। খুলনাতে পূর্ণাঙ্গ টিভি সেন্টার না থাকায় খুলনা বেতারই ছিল সাংস্কৃতিক চর্চার একমাত্র মাধ্যম, যা এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি, শিল্পীদের জন্য বিদ্যমান 'অতি নগণ্য' সম্মানী পরিবর্তন করে সম্মানজনক সম্মানী নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
শিল্পীরা জোর দিয়ে বলেন, নতুন করে বেতার ভবন তৈরি করার কাজ সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, বর্তমান কার্যক্রম চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ অবিলম্বে দিতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়েই তারা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
ইএইচ