ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

টঙ্গীতে পোশাক কারখানায় রহস্যজনক গণ-অসুস্থতা: হাসপাতালে শতাধিক শ্রমিক

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর প্রতিনিধি

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

টঙ্গীতে পোশাক কারখানায় রহস্যজনক গণ-অসুস্থতা: হাসপাতালে শতাধিক শ্রমিক

গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ চলাকালীন হঠাৎ করেই একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার সকালে টঙ্গীর ‘এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড’ কারখানায় এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। শতাধিক শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতাল এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও শ্রমিকেরা যথাসময়ে কারখানায় কাজে যোগ দেন। কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে উৎপাদন শাখার কয়েকজন নারী শ্রমিক মাথা ঘুরে পড়ে যেতে থাকেন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে অন্য শ্রমিকদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। বমি বমি ভাব, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং শরীরের অস্থিরতা নিয়ে একে একে শতাধিক শ্রমিক লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো কারখানায় হাহাকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শ্রমিকের মধ্যেই একইরকম কিছু উপসর্গগুলো দেখা গেছে। যেমন- তীব্র শ্বাসকষ্ট ও বুক ধড়ফড় করা, অনবরত বমি ও বমি বমি ভাব, অসহ্য মাথা ঘোরা এবং শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়া ও মানসিক অস্থিরতা ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, কারখানার ভেতরের গুমোট পরিবেশ, রাসায়নিকের প্রভাব অথবা তীব্র মানসিক চাপ থেকে এমনটি হতে পারে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে ‘ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বলা হয়, যেখানে একজনের অসুস্থতা দেখে মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়ে অন্যরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, এই কারখানায় শ্রমিকদের বেতন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই অস্থিরতা চলছিল। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করেন। ওইদিনও আন্দোলনের এক পর্যায়ে অন্তত ২০ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আজকের ঘটনাটি সোমবারের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শ্রমিকদের একটি অংশের অভিযোগ, আন্দোলনের কারণে তাদের ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও এই গণ-অসুস্থতার অন্যতম কারণ হতে পারে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, শ্রমিকেরা কেন এভাবে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। কারখানার বাতাস বা পানির কোনো সমস্যা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহযোগিতা নিচ্ছি।

কারখানার বাইরে অবস্থানরত সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, আমরা সোমবার থেকে আতঙ্কে আছি। কারখানার ভেতরে কোনো গ্যাসে সমস্যা হচ্ছে নাকি পানির লাইনে কিছু মিশেছে, তা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করছে না। আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কারখানার কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের খাবারের মান যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্র আছে কি না, সেটিও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে।

টঙ্গীর এই ঘটনা আবারও দেশের পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বকেয়া বেতন নিয়ে আন্দোলনের সময় বারবার এই ধরনের অসুস্থতার ঘটনা কেবল শারীরিক নয়, বরং শ্রমিকদের তীব্র মানসিক যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। দ্রুত এই ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করা না গেলে শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে আরও বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে অসুস্থ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেকের অবস্থার উন্নতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এএন

Link copied!