সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে ভোট নিয়ে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি ও একটি হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।
শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টে শামা ওবায়েদ লিখেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবসময় বিশ্বাস করতেন ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতেই রাজনীতির চর্চা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকেই এ আদর্শকে ধারণ করে আসছে। ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো নীতিমালা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি কখনো আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। এটাই আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাস।
তিনি আরও লিখেন, গত প্রায় ১৮ বছর ধরে বিএনপির ওপর অব্যাহত দমন-পীড়ন, অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবুও আমরা কখনো গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকারের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাইনি। সেই বিশ্বাস থেকেই ৫ আগস্ট পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অংশগ্রহণ থেকেও বিএনপি বিরত থেকেছে কারণ বিএনপি ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে। আমার রাজনৈতিক জীবন ও মূল্যবোধ গঠনের পেছনে আমার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের আদর্শ ও কর্মধারা বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি দলমত নির্বিশেষে নগরকান্দা ও সালথার মানুষকে নিজের ঘরের মানুষ, নিজের আপনজন হিসেবে দেখতেন। কারো বিপদ-আপদে তিনি আগে মানুষকে দেখতেন, পরে দল বা পরিচয়। আজও এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ তার সেই মানবিকতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব স্মরণ করেন।
শামা ওবায়েদ লিখেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর আজ আবার বাংলাদেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে। এ ঐতিহাসিক সময়ে দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আমার আন্তরিক আহ্বান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করুন।
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনায় রেখে, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে গণমানুষের কাছে পৌঁছে যান।
সবশেষ তিনি লিখেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে ভয় নয়, বিশ্বাসের রাজনীতি; সহিংসতা নয়, সহনশীলতার রাজনীতি এবং ক্ষমতার নয়, জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করি।
ইএইচ