নীলফামারী প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরমে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রিয়াদ আরফান সরকারকে দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত নীলফামারী-৪ আসনে ধানের শীষের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী আবদুর গফুর সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে 'স্বতন্ত্র' বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিয়াদ আরফান সরকারের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম বহিষ্কারের ঘটনা নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার দলীয় সিদ্ধান্তের অবাধ্য হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচনের অবাধ্যতা: এর আগে বিএনপি যখন বর্তমান সরকারের অধীনে সকল নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছিল, তখন রিয়াদ আরফান সেই নীতি তোয়াক্কা না করে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় তাকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
ক্ষমা ও প্রত্যাবর্তন: পরবর্তীতে নিজের ভুল স্বীকার করে এবং দলের প্রতি আনুগত্যের মুচলেকা দিয়ে গত বছরের ২৭ অক্টোবর তিনি পুনরায় দলে ফিরে আসেন। তখন তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সংসদ নির্বাচনে ফের বিদ্রোহ: দলের সাধারণ ক্ষমা পেয়েও তিনি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় এবার হাইকমান্ড কোনো ছাড় দেয়নি।
রিয়াদ আরফানের বহিষ্কারের খবর নীলফামারীতে পৌঁছালে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে জেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন কড়া ভাষায় বলেন, রিয়াদ আরফান দলের সাথে প্রতিনিয়ত বেইমানি করেছেন। একবার ক্ষমা পাওয়ার পরও তিনি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন যে তিনি দলের চেয়ে ব্যক্তির স্বার্থকে বড় মনে করেন। এই বহিষ্কারাদেশ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী আবদুর গফুর সরকার এখন কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও রিয়াদ আরফানের মতো জনপ্রিয় নেতার স্বতন্ত্র উপস্থিতি ভোটের হিসেবে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। রিয়াদ আরফান সৈয়দপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হওয়ায় তার একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থকরা তাকে কতটা গ্রহণ করবেন, তা এখন বড় প্রশ্ন।
নির্বাচনের প্রচার শুরুর প্রাক্কালে রিয়াদ আরফানকে বহিষ্কারের মাধ্যমে বিএনপি এই বার্তাই দিয়েছে যে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে দলের ভেতর কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নীলফামারীর এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কার পাল্লা ভারী করে, তা জানতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এএন