রাকিবুল হাসান, রাজশাহী
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের পর দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ভোটের উত্তাপ পেরিয়ে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়া পাড়ায় নিজ বাসভবনে বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। এ সময় তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। স্থানীয়রা এ ঘটনাকে রাজশাহী-৩ আসনে রাজনৈতিক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মিলন আমার ছোট ভাই। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলাম। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ। সবার মতামত নিয়ে রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। জেলা ও মহানগরের উন্নয়নের আদলে রাজশাহী-৩ আসনকে এগিয়ে নেওয়া হবে। কালাম ভাই দীর্ঘ ২৮ বছর হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন কার্যক্রমে কাজে লাগানো হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।
এর আগে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অধ্যাপক আজাদ বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, বিজয় আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্বও বয়ে আনে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হোক—এই কামনা রইল। জনকল্যাণে গঠনমূলক ভূমিকা রাখব।
পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজনীতিতে সৌজন্য ও সহমর্মিতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এমন উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা দেয়।
উল্লেখ্য, রাজশাহী-৩ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পান ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। অন্যদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) হাবিবা পান ১ হাজার ১৭৭ ভোট, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) আফজাল হোসেন ২ হাজার ৩৯০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) ফজলুর রহমান ১ হাজার ১৫৪ ভোট এবং আমজনতার দলের (প্রজাপতি) সাইদ পারভেজ পান ২৯৫ ভোট।
এএন