ফেনী প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পিআইও ও তাঁর কার্য সহকারীকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদার হুমায়ুন কবির রানার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় পিআইও মো. আল সাঈদ এবং কার্য সহকারী আবু নাছেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সোনাগাজী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্পের কাজ সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। কাজ শেষ করে বিল দাখিল করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল সাঈদ তাঁর কাছে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দিলে বিল পরিশোধ করা হবে না বলেও তাঁকে জানানো হয়।
এই পরিস্থিতিতে অভিযোগকারী প্রথম কিস্তি হিসেবে এক লাখ টাকা দিতে সম্মতি জানান। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি বিষয়টি দুদককে অবহিত করেন এবং ঘুষের টাকাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনতে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক এই ফাঁদ পাতা অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। এ সময় উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী ও জাহেদ আলম এবং কোর্ট পরিদর্শক মো. ইদ্রিসসহ ৮ সদস্যের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার হুমায়ুন কবির রানা অভিযোগ করে জানান, পিআইও ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এবার ১২ লাখ টাকা দাবি করলে তিনি এক লাখ টাকা দিতে রাজি হন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার টাকা দিতে গেলে দুদক কর্মকর্তারা তাঁদের আটক করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আটক করার সময় তাঁদের কাছ থেকে এক হাজার টাকার নোটের নতুন একটি বান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
জেএইচআর