ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নিজস্ব ভবন নেই। ভবন ও কমপ্লেক্স না থাকায় ডিজিটালাইজড সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
জানা গেছে, ঘিওর সদর, বড়টিয়া ও নালী- এই তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় পরিষদের সব ধরনের সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠকসহ দাপ্তরিক কার্যক্রম করতে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। অন্যদিকে গুদামঘর না থাকায় টিআর, জিআর, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ সরকারি বিভিন্ন রিলিফ সামগ্রী রাখা ও বিতরণ করতে জনপ্রতিনিধিরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
জন্মসনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকদের প্রণোদনা, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ ও হোল্ডিং প্লেট, গ্রাম্য আদালতের অভিযোগ মীমাংসা, তথ্য প্রদান, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রদত্ত পাসপোর্ট আবেদন, ভারতীয় ভিসা আবেদন, পর্চার আবেদন, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রয়, ই-মেইল, ডকুমেন্ট স্ক্যান, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, জমির খারিজ, ই-নামজারি, ভিসা প্রসেসিং, ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন, রেজিস্ট্রেশনসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০১ সালে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে বড়টিয়া ইউপি ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। অফিসের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে যাবতীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে অফিসিয়াল কার্যক্রম। বারান্দায় সচিবের জন্য ১টি রুম এবং উদ্যোক্তার জন্য ১টি কম্পিউটার রুম রয়েছে।
অফিস চলাকালীন সময়ে এলাকার লোকজন ঘন্টার পর ঘন্টা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ সম্পন্ন করেন। দুঃখের বিষয়, ইউপি ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের বসার কোনো স্থান নেই। অধিকাংশ সময় তারা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। অফিস চলাকালীন সময়ে শত শত লোকজন সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হন।
একতলা ভবনটির ছাদের অধিকাংশ স্থানে পলেস্তারা উঠে রড বের হয়ে গেছে। বিমগুলোতে ফাটল ধরেছে। দরজা-জানালাগুলো ভেঙে গেছে। বৃষ্টির সময় ইউপি ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বড়টিয়া বাজারের সড়ক থেকে ভবনটি ৪/৫ ফুট দেবে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় ভবনের ভেতরে পানি ঢুকে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হয়।
ভূমিকম্পে ২/৩টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না করলে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভবনের ভেতরে নোংরা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্রাবখানা ও টয়লেট ব্যবহার অযোগ্য বলে সদস্যরা জানিয়েছেন।
নালী ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন নেই ১৯৭৩ সাল থেকে। অস্থায়ী চারচালা টিনের ঘরে চলছে সকল কার্যক্রম। অফিস চলাকালীন সময়ে কাজ করতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। এলাকার লোকজন ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেন। কমপ্লেক্স নির্মাণের বরাদ্দ আসলেও ভূমি জটিলতায় ভবন ও কমপ্লেক্স নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘিওর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ভূমি জটিলতায় ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভবন না থাকায় আমাদের অফিসিয়াল কাজকর্ম করতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। ১৯৭২ সালে ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে প্রথম শচীন্দ্র নাথ রায় (মনোনীত) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও ডিজিটাল ইউপি ভবন নির্মিত হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, আমি ইউপি ভবনগুলো পরিদর্শন করেছি। ঘিওর, নালী ও বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল কমপ্লেক্স ও ভবন নেই। তবে ভূমি জটিলতায় স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করি একটি সমাধান হবে।
এলাকার সুশীল সমাজ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ভবন তিনটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এএন