ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

ভেজাল বীজে ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, কোটি টাকার ক্ষতি শঙ্কা

আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা

আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

ভেজাল বীজে ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, কোটি টাকার ক্ষতি শঙ্কা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নে ভুট্টা চাষে ভয়াবহ ফলন বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জগন্নাথপুর ও শ্রীরামপুর গ্রামের প্রায় ৫০-৬০ জন কৃষকের প্রায় আড়াইশ বিঘা জমিতে লাগানো ‘নসিব-৪০৫৫’ ও ‘প্রাইম-৩৩৫৫’ জাতের ভুট্টা বীজে আশানুরূপ ফলন না আসায় কৃষকরা এখন চরম আর্থিক ক্ষতি ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় সাদাব্রিজ সড়কের ‘কৃষি পল্লী সিড স্টোর’-এর মালিক নাজমুল হুদা রাব্বির কাছ থেকে তারা এই বীজ সংগ্রহ করেছিলেন। বিক্রির সময় বিক্রেতা প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ফলনের নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে অনেক জমিতে শিষ (মোচা) আসেনি। যেসব জমিতে ফলন হয়েছে, সেখানেও বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ২ মণের বেশি ভুট্টা পাওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতে গাছ বেশ হৃষ্টপুষ্ট ও বড় হলেও তাতে কোনো মোচা ধরেনি। কিছু গাছে মোচা ধরলেও তা আকারে অত্যন্ত ছোট এবং দানা নেই। বিঘাপ্রতি লিজ খরচ ও চাষাবাদ মিলিয়ে কৃষকদের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এখন বিনিয়োগ তোলা তো দূরের কথা, গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে গাছ কাটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শিমুল ও সুলতান জানান, কয়েক বিঘা জমিতে চাষ করতে গিয়ে তাদের প্রত্যেকের ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। লিজ নিয়ে চাষ করা কৃষক তানজেল বলেন, “চড়া দামে লিজ নিয়ে ও ধারদেনা করে চাষ করেছিলাম। শুরুতে গাছ দেখে বুক বাঁধলেও এখন সব শেষ। আমরা এখন সর্বস্বান্ত।” একইভাবে আব্দুল রহিম, আজিজুল, হাসেম আলীসহ এলাকার অসংখ্য কৃষক কোম্পানির প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে বীজ বিক্রেতা নাজমুল হুদা রাব্বি জানান, তিনি ময়মনসিংহের একটি কোম্পানির মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানিকৃত এই বীজ কেজিপ্রতি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। তিনিও এমন ফলন বিপর্যয় প্রত্যাশা করেননি বলে জানান এবং কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মাঠ পরিদর্শন করে আমরা ফলন বিপর্যয়ের প্রমাণ পেয়েছি। যেখানে বিঘাপ্রতি ৪০-৪৫ মণ ফলন হওয়ার কথা, সেখানে এমন অবস্থা সত্যিই উদ্বেগজনক। বিষয়টি জেলা পর্যায়ে জানানো হয়েছে। বীজের মান যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে অসাধু বীজ ব্যবসায়ী ও কোম্পানির বিচার করতে হবে এবং তাদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বেঁচে থাকার পথ করে দিতে হবে।

এএন

Link copied!