চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নে কুমার নদের ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে ‘বেকার’ হয়ে। প্রায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি সংযোগ সড়ক না থাকায় জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। সরকারের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখন গবাদিপশুর গোবর শুকানোর চাতালে পরিণত হয়েছে, যা সরকারি প্রকল্পের সমন্বয়হীনতা ও চরম তদারকির ঘাটতিকে তুলে ধরছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে আসাননগর ও বকশিপুর গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেতুর দুই প্রান্তে কোনো সংযোগ সড়ক করা হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশে শুধু কৃষিজমি আর পায়ে চলা সরু পথ। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাচলেরও উপায় নেই।
আসাননগর গ্রামের বাসিন্দা শিলু বলেন, “সেতুটি চালু হলে কুষ্টিয়ার সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ তৈরি হতো এবং অন্তত ৮-১০টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হতো। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে এটি এখন অকেজো।”
বকশিপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম জানান, সংযোগ সড়ক থাকলে আলমডাঙ্গা শহরে পৌঁছাতে ২০ মিনিটের পথ মাত্র ৫ মিনিটে নেমে আসত। ১০ বছরেও কোনো সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা জানান, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তবে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এখনো মেলেনি।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার সম্প্রতি বিষয়টি অবগত হয়েছেন জানিয়ে বলেন, “সেতুটি সম্পর্কে আগে বিস্তারিত জানা ছিল না। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একটি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তা কেন এক দশক ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে, সেই দায়ভার কে নেবে এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণেই সরকারি অর্থের এমন অপচয় হচ্ছে। অবিলম্বে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের চিহ্নিত করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এএন