ফেনী প্রতিনিধি
মে ১২, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ক্ষমতা গ্রহণের আড়াই মাসে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, সাংবাদিকরা মুক্তভাবে সংবাদ প্রচার করবে। তবে এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে বলে আমি মনে করি।
সোমবার বিকেলে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে ইউনিটি কার্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, সরকার হস্তক্ষেপ না করলেও কোনো কোনো মালিকপক্ষ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সেন্সরশিপ করে থাকেন। বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতেন। একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেহেতু দায়বদ্ধতা নেই, সেক্ষেত্রে তারা যা ইচ্ছা তা প্রচার করে। এক্ষেত্রে অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা গণমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব মোকাবেলায় সরকার, মালিকপক্ষ ও সাংবাদিকসহ অংশীজনদের নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভূঁইয়া রানা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আবু তাহের, ডিবিসি প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঞা, দৈনিক ফেনী সম্পাদক আরিফুল আমীন রিজভী, ভোরের কাগজ প্রতিনিধি শুকদেব নাথ তপন, বাসসের নোয়াখালী প্রতিনিধি নাসিমুল হক শুভ, দৈনিক ফেনীর সময় নির্বাহী সম্পাদক আলী হায়দার মানিক, বাংলাদেশ বেতার প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম ফেনীর সভাপতি শাহজালাল ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হাজারী ডালিম, পরশুরাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক ওসমান হারুন মাহমুদ দুলাল, ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও আবুল কাশেম চৌধুরীকে সাংবাদিক সম্মাননা দেওয়া হয়।
কামাল উদ্দিন সবুজ আরও বলেন, গণমাধ্যম কখনোই পুরোপুরি স্বাধীন ছিল না। ইউরোপ-আমেরিকা কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের যে হালহকিকত দেখা যাচ্ছে, তা মোটেই সুখকর নয়। উন্নত বিশ্বেও সরকার গণমাধ্যমকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেই তুলনায় আমাদের দেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি অনেক উন্নত।
ফেনীর এই কৃতি সন্তান বলেন, “ফেনী সাংবাদিকতার জন্য উর্বর ভূমি। বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে ফেনীর সাংবাদিকরা উজ্জ্বল করেছেন। শুধু তাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, শিল্প ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রেই ফেনীর কৃতি সন্তানদের ভূমিকা উজ্জ্বল। এই ধারাবাহিকতা বর্তমান প্রজন্মকে ধরে রাখতে হবে।”
বাসসের এমডি বলেন, স্বাধীন বা মুক্ত গণমাধ্যমে যদি আমরা একমত থাকতে পারতাম, তাহলে আমরা অনেক কিছু করতে পারতাম। পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ মুক্ত গণমাধ্যম নেই। নিরপেক্ষতা বলতে আসলে কিছু নেই। কিন্তু আমরা যখন রিপোর্ট লিখব, তখন যেন বস্তুনিষ্ঠতা থাকে। আমরা যখন সম্পাদনা করব, তখন সেটি যেন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করি।
অনুষ্ঠানে ইউনিটির সদস্য ছাড়াও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এএন