এম এম রহমান, ভোলা
মে ১৪, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
ভোলায় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কোটি টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ জব্দ করে বিলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টায় ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, জব্দকৃত ১০ হাজার ১৪০ কেজি ইলিশ নিষিদ্ধ সময়ে সাগর থেকে আহরণ করা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এই মাছগুলো নদীর এবং এর সপক্ষে মৎস্য বিভাগের বৈধ অনুমতিপত্রও তাদের কাছে রয়েছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে কোনো বাধা নেই। ব্যবসায়ীরা মৎস্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত ‘অনুমতিপত্র’ দেখিয়ে দাবি করেন, এই মাছগুলো মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মৎস্য অফিসের দেওয়া ক্লিয়ারেন্স থাকা সত্ত্বেও কোস্ট গার্ড কোনো কথা না শুনেই মাছগুলো সাগরের তকমা দিয়ে নিয়ে গেল।
বিশেষজ্ঞের মতামত বা বৈজ্ঞানিক কোনো পরীক্ষা ছাড়াই কেবল অনুমানের ভিত্তিতে এই বিশাল চালান জব্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুরো ঘটনায় মৎস্য বিভাগের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যে বিভাগের কর্মকর্তারা মাছ নদী থেকে আহরিত বলে বৈধ অনুমতিপত্র দিয়েছেন, সেই একই বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কীভাবে মাছগুলো জব্দ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, মাছগুলো যে নদী থেকে আহরিত, তার সত্যতা যাচাই করেই আমি অনুমতিপত্র দিয়েছি। আমার দেওয়া সরকারি কাগজের কেন মূল্যায়ন হলো না, সেটা বড় প্রশ্ন।
জব্দকৃত প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ রাতেই স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েই তারা অভিযান চালিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও কেন তা আমলে নেওয়া হলো না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।
এই ঘটনার পর ভোলার মাছ বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈধ কাগজ থাকার পরও যদি মাছ জব্দ হয়, তবে তারা ব্যবসা করবেন কীভাবে? মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযানের সময় মাছের উৎস নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞ দল এবং ল্যাবরেটরি টেস্টের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তা না হলে এ ধরনের বিতর্ক সরকারি পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কোটি টাকার লোকসানে পড়া ব্যবসায়ীদের দাবি আর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ির মাঝে চাপা পড়ে গেছে প্রকৃত সত্য।
জেএইচআর