পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মে ১৬, ২০২৬, ১০:২০ এএম
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে স্থান পাওয়া পটিয়ার একাংশের নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল পদবঞ্চিতদের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া শান্তিরহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটিতে নতুন করে ৭২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করে। এতে পটিয়া উপজেলা থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য পদে ১২ জন স্থান পান। তবে দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেও অনেকে পদ না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
দলীয় একটি সূত্র জানায়, নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া পটিয়ার অধিকাংশ নেতাকর্মী দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির অনুসারী। অন্যদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম নয়নের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার বিকেলে শান্তিরহাট কামাল সেন্টার মার্কেট এলাকায় নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এ সময় এসএম নয়নের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা মিছিলে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরবর্তীতে আনন্দ মিছিল বের করতে না পেরে নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা শান্তিরহাট মীর সুপার মার্কেট এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সমাবেশ শেষে চলে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪ থেকে ৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে সায়মন, নুরুল ইসলাম ও হাবিবের নাম জানা গেছে।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, সভা শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহত সায়মন ও নুরুল ইসলামের পেট ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনিও আহত হয়ে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এই বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম নয়ন বলেন, যারা বিগত সময়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েছে, তারা কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল। সেই কারণেই মূলত আনন্দ মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। তবে এই বিষয়ে জানতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে দুই পক্ষই স্থান ত্যাগ করে। থানায় কোনো হতাহতের খবর আসেনি এবং এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগও দায়ের করেনি।
জেএইচআর