দিনাজপুর প্রতিনিধি
মে ১৯, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
দিনাজপুর সদর উপজেলার শশরা হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও সুগন্ধি জাতের ‘ব্রি ধান১০৪’ এর নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের আয়োজনে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ব্রি ধান১০৪-এর মাঠ দিবস সম্পর্কে বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় সুগন্ধি বোরো জাত। এটি ফলন ও চালের গুণগত মানের দিক থেকে কৃষকদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিবেশে এই জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মোছা. সেলিমা জাহান বলেন, ব্রি ধান১০৪ বোরো মৌসুমের একটি উচ্চ ফলনশীল সুগন্ধি ধানের জাত। এর জীবনকাল প্রায় ১৪৭ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৫০ টন পর্যন্ত। এছাড়া এ জাতের চালের অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৯.২ শতাংশ হওয়ায় রান্নার পর ভাত বেশ ঝরঝরে হয়, যা ভোক্তাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।
স্থানীয় চাষি মো. দেলোয়ার হোসেন নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ব্রি ধান১০৪ এর ফলনে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এই ধানে চমৎকার সুগন্ধ রয়েছে, পাশাপাশি রোগ ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ করলে এই জাতের ধান চাষ কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক হবে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রদর্শনী প্লট থেকে ১০ বর্গমিটার জমিতে ব্রি ধান১০৪ এর নমুনা শস্য কর্তন করা হয়। পরবর্তীতে ফলন বিশ্লেষণে ১৬.২ শতাংশ আর্দ্রতায় হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাওয়া যায় ৭.৫৭ টন। মাঠ দিবসে প্রযুক্তি গ্রাম কাউগাঁ-শশরার শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশ নেন।
উপস্থিত চাষিরা ব্রি ধান১০৪ ছাড়াও ব্রি উদ্ভাবিত অন্যান্য ধানের জাত, আধুনিক ধান চাষ প্রযুক্তি, ফলন সক্ষমতা ও রোগ সহনশীলতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। পরিশেষে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান বীজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ড্রাম বিতরণ করা হয়।
ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (এলএসটিডি প্রকল্প) সৈয়দ জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শশরা হুগলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. সোহাগ হোসেন এবং ৫ নম্বর শশরা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনজুরুল ইসলামসহ স্থানীয় সুধীজন।
জেএইচআর