জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল
মে ২৫, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গার ২৩টি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত আতপ চালের পরিবর্তে পুষ্টিগুণ ও স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত মানের সিদ্ধ চাল বিতরণ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাটিরাঙ্গার ২৩টি গুচ্ছগ্রামে প্রায় ১০ হাজার রেশন কার্ডধারী পরিবার রয়েছে, যাদের জীবিকা অনেকাংশেই নির্ভর করে সরকারি এই খাদ্য সহায়তার ওপর। একসময় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতি কার্ডে নিয়মিত ৮৬ কেজি উন্নতমানের সিদ্ধ চাল বিতরণ করা হলেও ২০০৯ সালের পর এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের পাশাপাশি সিদ্ধ চালের পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের ও খাবার অযোগ্য আতপ চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।
সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিশেষ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ বছরের এই অনিয়ম ও ভোগান্তির বৃত্ত ভেঙে খাগড়াছড়ির ৮৬টি গুচ্ছগ্রামের পাশাপাশি মাটিরাঙ্গার ২৩টি গুচ্ছগ্রামে উন্নতমানের সিদ্ধ চাল সরবরাহ শুরু হয়েছে। যুগোপযোগী এই সিদ্ধান্তের কারণে উপকারভোগী সাধারণ কার্ডধারীরা সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
খেদাছড়া গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী আমেনা বেগম নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আগে আমাদের এই গুচ্ছগ্রামে যে আতপ চাল দেওয়া হতো, তা ছিল পচা ও নিম্নমানের। সেই চাল খেতে আমাদের অত্যন্ত কষ্ট হতো। বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত আমাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন উন্নতমানের সিদ্ধ চালের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আয়নাল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি গুচ্ছগ্রামের রেশন হিসেবে আমাদের পচা ও অনুপযুক্ত আতপ চাল দেওয়া হতো। বর্তমানে সংসদ সদস্য মহোদয়ের মানবিক উদ্যোগে আমরা উন্নতমানের সিদ্ধ চাল পাচ্ছি।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার গুচ্ছগ্রাম নিশা-১ এর তদারকি কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ জানান, গুচ্ছগ্রামের প্রতিটি পরিবারের কাছে যাতে সরকারি বরাদ্দের রেশন সঠিকভাবে ও নিয়ম মেনে পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। রেশন বিতরণে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসের তিন ডিও’র সমপরিমাণ মোট ২২৪.২১৭ কেজি উন্নতমানের সিদ্ধ চাল প্রতিটি কার্ডধারীর মাঝে যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের সমন্বিত উদ্যোগে রেশন বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি অবহেলিত পরিবারের কাছে মানসম্মত রেশন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।ৎ
জেএইচআর