মো. দেলোয়ার হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
জুন ৫, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
দীর্ঘদিনের তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, বেনুপুর, আশপুর, কালিয়াকৈর বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়।
ঈদের পর থেকে চলমান তীব্র গরম ও তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দিনের বেলায় খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেও বিভিন্ন স্বাস্থ্যজটিলতা দেখা দেয়।
হঠাৎ রাতের বৃষ্টিতে পরিবেশে শীতলতা ফিরে আসে। বৃষ্টির সঙ্গে বইতে থাকা ঠান্ডা বাতাসে গরমের তীব্রতা অনেকটাই কমে যায়। বৃষ্টির সময় অনেককে ঘরের বাইরে এসে স্বস্তি উপভোগ করতে দেখা যায়।
চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, গত কয়েকদিনের অসহনীয় গরমে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলাম। দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়াই কষ্টকর ছিল। আজকের বৃষ্টিতে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে।
সফিপুরের বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, প্রচণ্ড গরমে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। রাতে বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া অনেকটাই সহনীয় হয়েছে। আশা করছি আগামী দিনগুলোতে গরমের তীব্রতা আরও কমবে।
বৃষ্টিতে খুশি স্থানীয় কৃষকরাও। তারা জানান, কয়েকদিনের খরার মতো পরিস্থিতিতে জমির মাটি শুকিয়ে যাচ্ছিল। এই বৃষ্টিতে জমিতে আর্দ্রতা ফিরবে এবং বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উপকৃত হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিনের গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। রাতের এই বৃষ্টি মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, গত কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহে সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে ছিলেন। রাতের বৃষ্টিতে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের এ সময়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম বলেন, অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে তীব্র তাপদাহ থেকে আরও স্বস্তি মিলবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে।
এম জি