জাহাঙ্গীর আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
জুন ৭, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইনের শিকার ১১ জনের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। প্রায় ৪২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
জানা গেছে, গত ৫ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
পুশইনের শিকারদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী, চারজন শিশু এবং একজন গর্ভবতী নারী রয়েছেন। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের দিন কাটছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সংকটে তাদের মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২৬ মে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে। এরপর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তের জমির আইলে অবস্থানরত নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে স্থানীয়রা খাবার ও পানি পৌঁছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে থাকায় শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসুস্থতার লক্ষণও দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে তাদের গ্রহণ করা হবে। তবে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এম জি