আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ২, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
আজীবন বিএনপির রাজনীতি করতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ দুলু।
বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এ বক্তব্য দেন।
আলী আহম্মেদ দুলু বলেন, অতীতে দুইবার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী-এমপি রাজু সাহেব তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনে পরাজিত করেছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন অফিসে আটকে রেখে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি মূলত কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন না, তবে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে ছাত্রদল করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান হওয়ার পর যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তাদের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলেছেন। তবে শুরু থেকেই তার রাজনৈতিক শিকড় বিএনপিতে। তার এলাকার অধিকাংশ মানুষও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তিনি দাবি করেন।
আলী আহম্মেদ দুলুর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খাইরুল কবির খোকনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। তখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। পরে খাইরুল কবির খোকনের অনুমতি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি জানানোর জন্যই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তিনি আবারও নিজের “রাজনৈতিক ঘরে” ফিরে এসেছেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং জীবনের বাকি সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই থাকতে চান।
এদিকে তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আলী আহম্মেদ দুলু প্রথমে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আওয়ামী লীগের পরিচয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জেলা তাঁতীলীগের আহ্বায়ক এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদও লাভ করেন, যা এখনও বহাল রয়েছে।
এএন