মোহাম্মদ জাকির শাহ, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
জুলাই ৪, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নুরুল আলম নুরু হত্যা মামলায় দুই নিরীহ ইটভাটার শ্রমিক ও এক গৃহবধূকে আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে নির্দোষ ব্যক্তিদের অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভুক্তভোগীদের এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগীরা হলেন- চর কাদিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আহাম্মদ উল্লাহর ছেলে, ইটভাটার শ্রমিক মো. জহির (৪২), তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত দুলালের ছেলে কামাল উদ্দিন (৪৫) এবং চর কাদিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামালের স্ত্রী নুরনাহার বেগম পাখি (৩০)।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস, সাবেক ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. হাসান, সমাজকর্মী আজগর হোসেন জুয়েলসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় নিরীহ ও অসহায় মানুষকে জড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। জহির ও কামাল ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং পাখি একজন সাধারণ গৃহবধূ। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
তাদের অভিযোগ, মামলার আসামি হওয়ার পর তিনজনকে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করতে হয়েছে। পরে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে আইনগত ব্যয় বহন করে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত থাকলেও মামলার বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই দ্রুত তাদের নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. হাসান বলেন, নুরুল আলম নুরু সাহেবেরহাট ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। অথচ ভুক্তভোগীদের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে চর কাদিরা ইউনিয়নে। নুরুর সঙ্গে পাখি আক্তারের ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক ছিল। নুরু নিখোঁজ হওয়ার পর তার খোঁজ নিতে পাখি আক্তার কয়েকবার মোবাইলে যোগাযোগ করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধারের পর মোবাইল কলের সূত্র ধরে পুলিশ পাখি আক্তারকে আটক করে। পরে তার চাচা জহির ও ফুফা কামালকেও আটক করে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলার আসামি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বলেন, “একজন নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ নিতে মোবাইলে ফোন করাই যদি হত্যা মামলার আসামি হওয়ার কারণ হয়, তবে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাই।”
উল্লেখ্য, উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলম নুরু চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন। তিন দিন পর, ১৯ জানুয়ারি সকালে মাতাব্বরহাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের সিসি ব্লকের ওপর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর নুরুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ নুরনাহার পাখির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পায়। সেই সূত্র ধরে ১৯ জানুয়ারি রাতে পাখি বেগম, তার চাচা জহিরুল ইসলাম এবং ফুফা কামাল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে নিহতের পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাদের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ তিন মাস ১৬ দিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্তি পান।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিআইডি লক্ষ্মীপুর জেলার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যদি আসামিদের সম্পৃক্ততা না পাওয়া যায়, তাহলে তাদের অব্যাহতির জন্য আদালতে সুপারিশ করা হবে।
এএন