দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
জুলাই ৭, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিচয়হীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পর জানা গেছে, তিনি নেপালের নাগরিক রিয়ান আনসারী। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রিয়ান। এরপর দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করলেও শেষ পর্যন্ত ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের আশ্রয়ে থাকেন। মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ তার খাদ্য, চিকিৎসা ও সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব নেন।
সম্প্রতি রিয়ানের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি পরিবারের একটি যোগাযোগ নম্বর দিতে সক্ষম হন। সেই সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিয়ানের বাড়ি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানায়। তিনি বাদল আনসারীর ছেলে।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর থেকে রিয়ান নিয়মিত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের খোঁজ পাওয়ায় তিনি আনন্দিত এবং দ্রুত তাদের কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
রিয়ানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পলাশ আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সে আমার কাছেই রয়েছে। পরিবারের সদস্যের মতো করেই তাকে দেখাশোনা করেছি। কয়েক দিন আগে তার দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। এখন সে প্রতিদিন কয়েকবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং দেশে ফিরতে চায়।”
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, বিষয়টি বিভিন্ন সংস্থার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে।
এদিকে, দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর এক যুবকের পরিচয় উদ্ঘাটন এবং পরিবারের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বছরের পর বছর রিয়ানের পাশে দাঁড়ানো পলাশ আহমেদের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এএন