আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ
জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের উম্মুল কুরা মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সাইফুল ইসলামকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় আলেম-উলামা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২ জুলাই এক ছাত্রীকে অফিস কক্ষে ডেকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাইফুল ইসলাম। তবে মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব মাওলানা মাসুদুল হক শিবলীসহ একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত সময়ে নিয়মিত ক্লাস চলছিল এবং শিক্ষার্থীটি ক্লাসেই উপস্থিত ছিল। তাদের মতে, ওই সময় এমন ঘটনা ঘটার সুযোগই ছিল না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছুটি হওয়ার পর বিকেলে বাদীপক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে মুহতামিমকে মারধর, ভাঙচুর এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং মামলা দায়েরের পর কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা মুস্তফা হোসাইনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন মুহতামিমের পরিবার। তাদের দাবি, মাদ্রাসা দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছিল। একই সঙ্গে সাবেক যুবলীগ কর্মী বিল্লাল হোসেন মানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ধর্ষক’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সমঝোতার নামে অর্থ দাবির অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা মুস্তফা হোসাইনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ফারুক আহমেদ বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে ইত্তেফাকুল উলামা মোমেনশাহী, স্থানীয় উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রী ও অভিভাবকদের বড় একটি অংশ ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এএন