মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট
জুলাই ৮, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিস্তা নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতিবছরের মতো এবারও নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের চিনাতলী এবং খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিণচড়া আদর্শ বাজার ও কুটিপাড়া এলাকায় তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে অন্তত ১৫টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে ধান, পাট, বাদামের ক্ষেত এবং মাছের ঘেরও নদীতে ভেঙে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য পরিবার।
হরিণচড়া এলাকার ৯৫ বছর বয়সী মোছা. ছকিনা বেগম জানান, প্রায় তিন যুগ ধরে তিনি ওই এলাকায় বসবাস করছেন। ভাঙনে স্বামীর কবর ও স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তিনি ভেঙে পড়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবকিছু হারিয়ে তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বন্যার পানি কমার পরই শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙন। অনেক পরিবার তিন থেকে চারবার পর্যন্ত ঘরবাড়ি সরিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। প্রতি বছর ঈদগাহ মাঠ, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। তাই স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে তিস্তা নদীতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।
নদীপাড়ের মানুষের দাবি, তিস্তা নদীতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বসতভিটা এবং বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এম জি