আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ২০, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
দেশের ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে ভুয়া আর্থিক তথ্য, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহির অভাবে বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘ফাইনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (ফার) সামিট ২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতি নানা অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে। এ সময় ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া আর্থিক তথ্য উপস্থাপনের প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুঁজিবাজার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ দেশের আর্থিক খাতগুলোকে আরও বিকেন্দ্রীভূত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, ভুয়া তথ্য দেখিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এতে প্রকৃত ও ভালো কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গিয়ে বাজারে মূলধনের সংকট তৈরি হয়েছে।
ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে কিছু শেয়ার কিনলেই কেউ ব্যাংকের মালিক হয়ে যান। বাস্তবে ব্যাংকের মালিকানা শেয়ারহোল্ডারদের, আর ব্যাংকের অর্থ আমানতকারীদের। কোনো ব্যক্তি এককভাবে নিজেকে ব্যাংকের মালিক দাবি করতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, মানি লন্ডারিং, দুর্বল করপোরেট ব্যবস্থাপনা এবং ভুয়া আর্থিক তথ্য দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার আর্থিক খাত সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আর্থিক প্রতিবেদন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে হিসাববিদ, নিরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
হিসাববিদ ও নিরীক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নে তাদের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সঠিক তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন ছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
এম জি