জবি প্রতিনিধি
মার্চ ৮, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে উপাচার্য ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে শাখা ছাত্রদল।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিজ্ঞান ভবন ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘অথর্ব প্রশাসন মানি না’, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেন প্রশাসন জবাব দে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁরা সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেননি, কিন্তু জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপন রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এসব সংগঠন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের একটি অংশকে বাইরে রেখে ‘পাতানো নির্বাচন’-এর মাধ্যমে সমিতি দখল করা হয়েছে।
হিমেল আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের প্রেসক্রিপশনে বর্তমান উপাচার্য সাংবাদিক সমিতির জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছেন। আমরা ভিসি স্যারকে বলেছিলাম সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দিতে, কিন্তু তিনি তা করেননি। এর ফলে গত ৫ মার্চ সাংবাদিকদের ওপর নেক্কারজনক হামলা হয়েছে। এই হামলার দায় পুরোপুরি উপাচার্য ও বর্তমান প্রশাসনের।
সমাবেশে আবাসন ভাতার প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রদল আহ্বায়ক বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বিশেষ বৃত্তির ঘোষণা এলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। দ্রুত এই বৃত্তি প্রদান না করলে প্রশাসনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন তিনি।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এই হামলার দায় এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, শাহরিয়ার হোসেনসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমিতির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।
জেএইচআর