হাফিজ শাহরিয়ার, রুয়েট
মে ২১, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) রোভার গবেষণা ও উদ্ভাবনী দল “টিম অগ্রদূত” আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রোভার প্রতিযোগিতা আনাতোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ (এআরসি) ২০২৬-এ দলটি বিশ্বব্যাপী ১৩তম স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ডিজাইন ক্যাটাগরিতে ৫০-এর মধ্যে ৪৮.৫৯ নম্বর পেয়ে প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা স্কোর অর্জন করেছে দলটি।
আগামী ২৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এমইটিইউ) ক্যাম্পাসে প্রতিযোগিতাটির মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টিম অগ্রদূত শুরু থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ রোভার ও স্পেস রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে। ২০১৮ সালের ইন্ডিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে দলটি এশিয়ার শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করে। এছাড়াও ২০১৯ সালে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে বিশ্বব্যাপী ২৭তম স্থান লাভ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল রোভার ডিজাইন চ্যালেঞ্জ (আইআরডিসি) ২০২৩-এ দলটি বিশ্বে ১১তম এবং বাংলাদেশে ১ম স্থান অর্জন করে ব্যাপক সাড়া ফেলে। একই ধারাবাহিকতায় আইআরডিসি ২০২৫-এ সেমিফাইনালিস্ট এবং আইআরসি ২০২৫-এ ফাইনালিস্ট হওয়ার মাধ্যমে দলটি বাংলাদেশের অন্যতম সফল রোভার টিম হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
শুধু প্রতিযোগিতামূলক সাফল্যেই নয়, বাস্তব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনেও টিম অগ্রদূতের অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে দলটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি বোম্ব ডিসপোজাল রোবট তৈরি করে, যা তাদের বাস্তবমুখী প্রকৌশল দক্ষতা ও গবেষণার সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
টিম অগ্রদূতের মূল লক্ষ্য উন্নত অটোনোমাস রোভার প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং তরুণ প্রকৌশলীদের হাতে-কলমে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্ভাবকদের অনুপ্রাণিত করাই দলটির ভিশন।
বর্তমানে দলটি এআরসি ২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রস্তুতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। অত্যাধুনিক রোভার ডিজাইন, অটোনোমাস নেভিগেশন, সায়েন্টিফিক অ্যানালাইসিস এবং রিয়েল-টাইম অপারেশন নিয়ে তাদের চলমান গবেষণা ইতোমধ্যেই প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরতে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে আরও এগিয়ে নিতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টিম অগ্রদূতের সদস্যরা। বাংলাদেশের নাম বিশ্ব রোবোটিক্স অঙ্গনে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এএন