আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ০২:১৮ পিএম
ভারতের পেঁয়াজের বাজার সাম্প্রতিক সময়ে মন্দার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে দেশটির বড় ক্রেতা বাংলাদেশ বিপুল পেঁয়াজ নিচ্ছে না। এর সঙ্গে সৌদি আরবও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ভারতের বদলে পেঁয়াজের জন্য পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকেছে, যা নয়াদিল্লির বাজারকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত ভারতের বারবার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আর স্থানীয় দাম স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, ভারতের পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো উৎপাদন বৃদ্ধি করছে এবং নিজেদের স্বনির্ভর করছে। এতে বিশ্ববাজারে ভারতের আধিপত্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
ভারতের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এক সময় দেশের মোট রপ্তানির চারভাগের তিনভাগ বাংলাদেশে পাঠানো হতো। তবে গত আট মাসে বাংলাদেশ খুব কম পেঁয়াজ আমদানি করেছে, যদিও দেশে দাম আগের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ কম আমদানি করছে।
রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেছেন, “আমাদের পেঁয়াজের কোয়ালিটির জন্য আমরা ভালো দাম আদায় করতে পারতাম। কিন্তু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিত ছিলাম না। তখন ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজেছে। এখন তারা শুধু দাম দেখে। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ কত দামে পেঁয়াজ দিচ্ছে, সেটি লক্ষ্য করছে।”
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারত ছয় মাসের জন্য এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাস পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে ভারতের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে দাম বেড়ে গেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ভারতকে কূটনৈতিক নোট পাঠায়, যেখানে বারবার রপ্তানিতে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
রপ্তানিকারকরা জানাচ্ছেন, বারবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে ক্রেতারা অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকেছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল জানিয়েছেন, “আমরা শুধু ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি, তারা আমাদের বীজ ব্যবহার করে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।”
সূত্র জানাচ্ছে, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ নিচ্ছে না। ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়ায় তারা সেদিকে ঝুঁকেছে। অপরদিকে ফিলিপাইন চীনের পেঁয়াজ না পেলে ভারত থেকে তা কিনছে।
এর ফলে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য প্রথাগত বাজারগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে, যা দেশীয় চাষিদের জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইএইচ