আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্চ ৯, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
এক ভয়াবহ পারিবারিক ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করেছেন মোজতবা খামেনি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের অন্তত আটজন সদস্যকে হারানোর পর তিনি দেশটির নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিমান হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তাদের এক পুত্র নিহত হন। পরবর্তীতে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার মা মনসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ। এরপর আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। হামলায় মোজতবার বোন, ভাগ্নে ও ভগ্নিপতিসহ আরও চার নিকটাত্মীয় প্রাণ হারিয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ আলেম পরিষদ (ক্লারিক বডি) ভোটের মাধ্যমে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা দীর্ঘকাল ধরে ইরানের প্রভাবশালী রেভোলিউশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি দেশটির সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমসহ সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মোজতবা খামেনির এই দায়িত্ব গ্রহণকে চীন ও রাশিয়া ইতিবাচকভাবে দেখলেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া এই নেতৃত্বের স্থায়িত্ব হবে অনিশ্চিত। অন্যদিকে, ইসরায়েল নতুন নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিলেও তার নাম ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
জেএইচআর