আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে সোমবার বিকেলে রিখটার স্কেলে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ইওয়াতে, আওমোরি এবং হোক্কাইডো প্রশাসনিক অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা জারি করে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট এই কম্পনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (প্রায় ৯.৮৪ ফুট) উচ্চতার সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার নিচে। অগভীর গভীরতায় শক্তিশালী কম্পন হওয়ায় সুনামির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
জাপানের ভূ-কম্পন তীব্রতা স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ‘আপার ৫’, যা এতটাই শক্তিশালী যে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের কম্পনে দুর্বল কাঠামোর ইট বা কংক্রিটের দেয়াল ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
ভূমিকম্পের পর টোকিওসহ জাপানের বড় অংশে কম্পন অনুভূত হয়। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ বুলেটিনে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থা আরও জানিয়েছে, সুনামির প্রথম ঢেউ ইতোমধ্যে কিছু উপকূলে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং পরবর্তী ঢেউগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ দলগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় সুনামি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে উন্নত। তবে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সম্ভাব্য ৩ মিটার উচ্চতার সুনামির সতর্কতা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা বহাল রেখেছে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থান না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স