আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস-এ আয়োজিত এক রাতের সমাবেশে বহুল আলোচিত ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোনের বিশাল প্রদর্শনী করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে মূলত ‘শাহেদ-১৩৬’ মডেলের ড্রোন প্রদর্শিত হয়। কম খরচে দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম এই ড্রোন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে তারা একটি মার্কিন Boeing E-3 Sentry (অকাস) বিমান লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছিল। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি, এবং বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্নমতও রয়েছে।
প্রদর্শনী ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনেকেই ড্রোনের গায়ে স্বাক্ষর করেন, কেউ কেউ প্রার্থনাও করেন যা ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতি জনসমর্থনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে তৈরি হলেও ‘শাহেদ’ ড্রোন উচ্চমূল্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে এই প্রযুক্তি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
এই প্রেক্ষাপটে ‘শাহেদ’ ড্রোনের এমন প্রকাশ্য প্রদর্শনীকে কেবল সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এএন