আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে। সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় দেশটিতে পেট্রোল ও গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সরকারি ও বাজার পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪.১৮ ডলারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের পর আবারও জ্বালানি বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সে সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠেছিল। এবারের পরিস্থিতিতেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।
এক বছর আগে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল প্রায় ৩.১৫ ডলার, যা বর্তমান দামের তুলনায় অনেক কম। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে দেশটির সব অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম এক নয়। তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে তুলনামূলকভাবে দাম কম থাকলেও উপকূলীয় ও আমদানি-নির্ভর রাজ্যগুলোতে তা অনেক বেশি। উদাহরণ হিসেবে কিছু রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ৫ ডলারের কাছাকাছি বা তারও বেশি পৌঁছে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ সম্পন্ন হয়। এই রুটে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানির দামে।
পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাতের আগে যেখানে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এএন