ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

আটলান্টিক প্রমোদতরীতে হান্তাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৮, ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

আটলান্টিক প্রমোদতরীতে হান্তাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ৩ জনের মৃত্যু

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে রহস্যময় এবং প্রাণঘাতী হান্তাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই সংক্রমণে ইতিমধ্যে তিনজন ডাচ (নেদারল্যান্ডস) নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আরও একজন ব্রিটিশ পর্যটক দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (ICU) রয়েছেন এবং জাহাজের দুই ক্রু সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা সকলেই নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ছিলেন।

১. ডাচ দম্পতি: ৭০ বছর বয়সী একজন পুরুষ এবং ৬৯ বছর বয়সী একজন নারী, এই দম্পতি প্রমোদতরীতে ভ্রমণকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুরুষ যাত্রীটি দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ শাসিত সেন্ট হেলেনা দ্বীপে পৌঁছানোর পরপরই মারা যান।
২. জোহানেসবার্গে মৃত্যু: ওই ব্যক্তির স্ত্রীও জাহাজে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে বিমানে করে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
৩. জাহাজে মৃতদেহ: তৃতীয় যে ডাচ নাগরিক মারা গেছেন, তার মরদেহ এখনও প্রমোদতরীর ভেতরেই রাখা হয়েছে। আইনি ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে মরদেহটি এখনও নামানো সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ৬৯ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে জোহানেসবার্গের স্যান্ডটনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, তার শরীরে হান্তাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সেন্ট হেলেনা থেকে অ্যাসসেনশন আইল্যান্ডে যাওয়ার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকায় আনা হয়।

প্রমোদতরীটির পরিচালনাকারী সংস্থা 'ওশানওয়াইড এক্সপিডিশনস' জানিয়েছে, জাহাজের আরও দুইজন ক্রু সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। জাহাজটি বর্তমানে কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে অবস্থান করছে এবং গত ২৪ ঘণ্টা ধরে সেখানেই নোঙর করে আছে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে অসুস্থদের জাহাজ থেকে নামানোর বা বন্দরে নোঙর করার অনুমতি এখনও দেয়নি।

হান্তাভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা সাধারণত ইঁদুর বা এই জাতীয় বন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। মানুষের শরীরে এই ভাইরাসটি প্রধানত দুটি বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে:

HPS (Hantavirus Pulmonary Syndrome): এটি ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে।
HFRS (Hemorrhagic Fever with Renal Syndrome): এটি রক্তক্ষরণজনিত জ্বর এবং কিডনি বিকল হওয়ার কারণ হতে পারে।

এই ভাইরাসটি ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মল দ্বারা দূষিত বাতাস বা খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। তবে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যা বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রমোদতরীটি যখন আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আটলান্টিকের দীর্ঘ যাত্রাপথে কীভাবে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হলো, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখছেন যে জাহাজটিতে ইঁদুরের উপদ্রব ছিল কি না।

কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। জাহাজে থাকা বাকি পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে অসুস্থের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এই প্রাদুর্ভাব বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্প এবং নৌ-চলাচল ব্যবস্থার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

এএন

Link copied!