আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ২৫, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
মাদক কারবারি ও পলাতক আসামিদের ধরতে থাইল্যান্ডের পুলিশ অভিনব সব ছদ্মবেশ ধারণ করছে। কখনো ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশিল্পী, কখনো সিংহ নাচের দল, আবার কখনো ঝোপঝাড় সেজে অপরাধীদের একেবারে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করছেন থাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের লোপ বুরি প্রদেশের থা লুয়াং জেলায় এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে নৃত্যশিল্পীর ছদ্মবেশ নেয় পুলিশ। দ্য থাইগারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ছদ্মবেশী পুলিশ কর্মকর্তারা মেখা ফা-ওয়াপ-ওয়াপ নামের ওই সন্দেহভাজনকে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে আটক করেন। সে মূলত অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৫৩টি মেথামফেটামিন ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুই শতাধিক প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়ার মেশিন চালানোর অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
থাই পুলিশের এমন অদ্ভুত ছদ্মবেশ নেওয়ার ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা চন্দ্র নববর্ষের একটি মেলা থেকে এক কুখ্যাত চোরকে ধরতে 'সিংহ নৃত্য' দলের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। ওই চোর দীর্ঘদিন ধরে বারবার পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে আসছিল।
সেই অভিযানের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পুলিশ ক্যাপ্টেন লের্টভারিট লের্টভোরাপ্রিচা দ্য গার্ডিয়ানকে, নাচটি একদম তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
তাড়াহুড়োর কারণে লের্টভারিট ভুল করে এক সহকর্মীর পুরুষের মুখোশ পরে নিয়েছিলেন। সাথে ছিল লাল রেশমি পোশাক, লম্বা প্যান্ট এবং ট্যাকটিক্যাল বুট। তবে তাদের এই ছদ্মবেশ শতভাগ সফল হয়। মেলায় আসা শিশুরা তাদের সাথে নাচতে শুরু করে, পথচারীরা আনন্দ পায় এবং মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি একদম অসতর্ক হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে সিংহ নাচের লাল-হলুদ পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরা তাকে নিমেষেই কাবু করে ফেলেন।
ক্যাপ্টেন লের্টভারিটের দল এর আগেও আসামি ধরতে ঝোপঝাড়, নির্মাণ শ্রমিক, এমনকি টাইটস পরা কুস্তিগীরের রূপ নিয়েছেন। এসব অভিনব অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। লের্টভারিট, কোনো অপরাধীকে ধরার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, যখন তারা জীবন উপভোগ করছে এবং চারপাশ নিয়ে পুরোপুরি অসচেতন, ঠিক তখন আকস্মিক আক্রমণ করা।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং অপরাধীর অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করেই মূলত ছদ্মবেশের আইডিয়াগুলো বের করা হয়। যেমন—সিংহ নাচের ক্ষেত্রে তারা জানতেন যে মেলা ও উৎসবের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে ওই চোর সহজেই আত্মগোপন করার চেষ্টা করবে।
সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টিকে বেশ হাস্যকর বা বিনোদনমূলক মনে হলেও থাই পুলিশ জানিয়েছে, এই কৌশলের মাধ্যমে ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতনের মতো বহু গুরুতর মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
থাইল্যান্ডের এমনই আরেকটি আলোচিত ঘটনায়, এক নাবালিকাকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত আসামিকে ধরতে এক পুলিশ কর্মকর্তা শুকনো পাতার ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন। তিনি প্রায় শত মিটার ধানক্ষেতের কাদা মাটির ওপর হামাগুড়ি দিয়ে অপরাধীর নাগাল পান। ঠিক একই মাসে, এক চীনা পর্যটককে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত আসামিকে ধরতে আরেক কর্মকর্তা পেশাদার কুস্তিগীরের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
অবশ্য ব্যাংকক মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে যে, তারা কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট বা সস্তা প্রচারণার জন্য এমনটি করছেন। লের্টভারিট, সাধারণত যারা দাগী অপরাধী কিংবা অতীতে পুলিশকে বারবার ধোঁকা দিয়েছে, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই এই বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়। আর এতে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও বেশ ইতিবাচক।
লের্টভারিট আশা প্রকাশ করেন, পুলিশের এই অভিযানের ভিডিওগুলো দেখে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন যে অপরাধ দমনে প্রশাসন কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সাথে অপরাধীদের প্রতি তাঁর বার্তা, অপরাধ করে পার পাওয়ার দিন শেষ, পৃথিবীটা দিন দিন ছোট হয়ে আসছে।
এএন