আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
আগামী সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। আগামী ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কথিত অবৈধ ও নথিবিহীন বাংলাদেশিদের নিয়মিত পুশব্যাকের চেষ্টার খবরের মাঝেই এই বৈঠকের তারিখ চূড়ান্ত হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই বিএসএফ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে, ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীন কুমার।
বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজিবি-বিএসএফের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, অনুপ্রবেশ রোধ এবং পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত কথিত নথিবিহীন বাংলাদেশিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এমন এক সময়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তর করেছে। এ ছাড়া, অনুপ্রবেশকারীদের ধরা পড়লে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের রাখার জন্য জেলাগুলোতে হোল্ডিং সেন্টারও খোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকা এখনো কাঁটাতারহীন অবস্থায় আছে। নদী ও দুর্গম ভৌগোলিক কারণে এই ৮৬০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটারে কাঁটাতার বসানো সম্ভব নয়। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত সীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মসৃণ করতে উভয় পক্ষই তৎপর রয়েছে।
সূত্র : পিটিআই
জেএইচআর