আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ২০, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
কঠোর অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে এসে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথেই হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি হবে না। কিন্তু কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর রীতিমতো বড় চাপে পড়েই আলোচনার টেবিলে বসেছেন তিনি।
যে দাপট নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, শেষ পর্যন্ত সেই দাপট কমিয়ে চুক্তিতে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধ শেষের পথে এসে দেখা যাচ্ছে, আত্মসমর্পণ নয়, বরং দুই পক্ষের সমঝোতাই হয়ে উঠেছে যুদ্ধ বন্ধের মূল পথ। কোন কোন আশঙ্কায় ট্রাম্প এই চুক্তিতে যেতে বাধ্য হলেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
ডনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে বড় চাপে ছিলেন অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি ঘিরে তেল সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে।
দ্বিতীয় চাপ আসে সামরিক খরচ ও দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত যত বাড়ছিল, ততই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তা আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে পরিণত হতে পারত- যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউরোপীয় মিত্ররা শুরু থেকেই চাইছিল দ্রুত এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো হোক, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা না লাগে। এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার দিকে ঠেলে দেয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আশঙ্কা ছিল ইরানের পাল্টা কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে একের পর এক আঘাত হানছিলো ইরান, যা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
এএন