আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ১৭, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বৃহস্পতিবার দেশের জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাইমটাইম ভাষণে তিনি দেশটির সামগ্রিক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির পুরোনো অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আনতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে চীনের কোনো গোপন ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ ছিল কি না-তা নিয়ে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংগৃহীত কিছু স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য এই ভাষণে ফাঁস করা হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে তা নতুন করে বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে তাঁকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক আদালত, পুনঃভোট গণনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তে ওই নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি।
এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সংগ্রহ করা নিজস্ব গোয়েন্দা নথিতেও নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ বা ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এ বিষয়ে জানান, প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্য নিয়ে কাজ করছেন এবং ভাষণের খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের সমর্থনপুষ্ট 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' নামের একটি বিল পাসের জন্য তিনি জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই আইন পাস হলে দেশটিতে ভোট দেওয়ার জন্য ছবিসহ পরিচয়পত্র (ফটো আইডি) এবং ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হবে।
তবে ডেমোক্র্যাট শিবির এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এমন কঠিন শর্তারোপ মূলত সাধারণ ও বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করার একটি চতুর কৌশল।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান দলের অনেক নীতি-নির্ধারকও ট্রাম্পকে অতীত নির্বাচন বা ট্রাম্প-বাইডেন দ্বৈরথ নিয়ে পড়ে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সংকট তথা মূল্যস্ফীতি, আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্যের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
জেএইচআর