ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শাবিপ্রবিতে ২৮ বছরের প্রতীক্ষা আরও বাড়ল

ভোটগ্রহণের আগের দিনই ‘শাকসু’ নির্বাচন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

ভোটগ্রহণের আগের দিনই ‘শাকসু’ নির্বাচন স্থগিত

ভোটের জন্য প্রস্তুত ছিল ব্যালট বাক্স, প্রার্থীরা সেরেছিলেন শেষ মুহূর্তের প্রচারণা; কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। 

সোমবার দুপুরে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে উচ্চ আদালত এই আদেশ দেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত থমকে গেল নির্বাচনের সব কার্যক্রম।

এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত নির্বাচনের ওপর চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি একটি রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকায় ত্রুটি অথবা নির্বাচনী তফশিলের কোনো আইনি অসংগতির অভিযোগ তুলে এই রিটটি দায়ের করা হয়েছিল। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

শাবিপ্রবিতে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এরপর দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। বর্তমান উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছায় অবশেষে ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দুই সপ্তাহ ধরে পুরো ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার, প্রার্থীরা দলবেঁধে মিছিল করা এবং সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার যে দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, আদালতের আদেশের পর সেখানে এখন বিরাজ করছে স্তব্ধতা। অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী এই স্থগিতাদেশকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

ভোটগ্রহণের মাত্র ২০ ঘণ্টা আগে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভিপি পদপ্রার্থী বলেন, আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ছিল। শেষ মুহূর্তে এভাবে স্থগিত হওয়াটা আমাদের জন্য মানসিকভাবে খুব কষ্টের। আমরা আশা করি আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত ভোটের নতুন তারিখ পাওয়া যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে। যেহেতু উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তাই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় নির্বাচনের তফসিল দেওয়া সম্ভব নয়।

শাকসু নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ শুরু হয়েছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ইসি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই আইনি লড়াই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন ছিল। তবে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—চার সপ্তাহ পর নির্বাচন কি আদৌ হবে, নাকি আবার কোনো দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে শাবিপ্রবির ছাত্র রাজনীতি?

শাবিপ্রবির আকাশ যখন গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন সূর্য দেখার অপেক্ষায় ছিল, ঠিক তখনই আইনি গ্যাঁড়াকলে ঢাকা পড়ল সেই সম্ভাবনা। উচ্চ আদালতের এই স্থগিতাদেশ কেবল একটি তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ওপর নতুন করে শঙ্কার মেঘ জমাল। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াই শেষে ‘শাকসু’ আবার কবে আলোর মুখ দেখে।

এএন

Link copied!