আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ১১, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রী ও গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার স্বামী সাইফুল ইসলাম (২১)। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) সাইফুল ইসলামকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। একই রাতে সাইফুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
নিহতের ভাই মো. চান মিয়া জানান, প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লার হোমনা থানার বাসিন্দা ও পেশায় ফুডপান্ডা ডেলিভারি রাইডার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মারিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সাইফুলকে ফোন করলে তিনি বাসায় গিয়ে দেখে আসতে বলেন। এরপর স্বজনরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরসংলগ্ন বারান্দার মেঝেতে মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় কালো দাগও দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খিলগাঁও থানার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার খবর পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার স্বামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, সানজিদা আক্তার মারিয়ার মরদেহ গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাইফুলের বাবা-মাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এম জি