ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
হাইকোর্ট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে পারছেন না বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে পারছেন না বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর করা রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল রইল এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। 

বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই ঘটনার সূত্রপাত হয় মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় থেকে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল আবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একজন ঋণখেলাপি এবং তিনি তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি গোপন করেছেন। 

গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই আপিলের ওপর দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে তথ্য গোপনের অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে এবং মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। ইসির এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি দাবি করে গত সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আজ বুধবার আবেদনটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ১৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল।

আদালতে উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব আদালতে শুনানির সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক চলে। মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, রিটার্নিং কর্মকর্তা সঠিকভাবেই তাঁর প্রার্থিতা বৈধ করেছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়াই তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। 

মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন দেশের প্রথিতযশা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস ও এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান। তাঁদের সহায়তায় ছিলেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন। তাঁরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, ঋণখেলাপির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তিযোগ্য এবং এটি প্রার্থিতা বাতিলের একমাত্র কারণ হতে পারে না।

অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন, সৈয়দ মামুন মাহবুব, মোহাম্মদ হোসেন ও এহসান এ সিদ্দিক। তাঁদের সহযোগিতা করেন জহিরুল ইসলাম মুসা। তাঁরা আদালতের সামনে তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখান যে, প্রার্থী তাঁর হলফনামায় ব্যাংক ঋণের তথ্য গোপন করেছেন, যা নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শুনানি শেষে আদালত রিটটি সরাসরি খারিজ বা সামারিলি ডিসমিসড করার আদেশ দেন।

আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া আদালতের আদেশের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, মাননীয় হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। এর অর্থ হলো নির্বাচন কমিশন যে যুক্তিতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল, সেটিই আইনত বহাল থাকল। আইনিভাবে এখন তাঁর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ার আর কোনো সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বিএনপির একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের খবর নির্বাচনী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। 

অন্যদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকরা এই আদেশকে সত্যের জয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ঋণখেলাপি বা তথ্য গোপনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য উচ্চ আদালতের এই কঠোর অবস্থান নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি বড় বার্তা। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি এই আসনে বিকল্প কোনো কৌশলে এগোবে কি না, নাকি আসনটি প্রার্থীবিহীন অবস্থায় থাকবে।

জেএইচআর

Link copied!