ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

এইচএসসি খাতার বোর্ড চ্যালেঞ্জে রেকর্ড: ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৯:২৪ পিএম

এইচএসসি খাতার বোর্ড চ্যালেঞ্জে রেকর্ড: ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর আবেদন

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে এবার রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি, আর বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন বেশি করেছেন।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পরেই কুমিল্লা ও রাজশাহী বোর্ডে বেশি আবেদন এসেছে। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা সাত দিনের মধ্যে প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পান।

ঢাকা বোর্ডের ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ হাজার ১৫০ জন ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করেছেন, যেখান থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৬ খাতা পুনঃনিরীক্ষার তালিকায় এসেছে। কুমিল্লা বোর্ডে ২২ হাজার ৫০৩ জন শিক্ষার্থী ৪২ হাজার ৪৪ খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। রাজশাহী বোর্ডে আবেদন করেছেন ২০ হাজার ৯২৪ জন শিক্ষার্থী, যেখান থেকে ৩৬ হাজার ১০২ খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আওতায় এসেছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ১ হাজার ৮৪৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ হাজার ৫৯৫ জনের আবেদন থেকে ৪৬ হাজার ১৪৮ খাতা পুনঃনিরীক্ষণের তালিকায় এসেছে। যশোর বোর্ডে ২০ হাজার ৩৯৫ শিক্ষার্থী ৩৬ হাজার ২০৫ খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। দিনাজপুর বোর্ডে ১৭ হাজার ৩১৮ জনের আবেদন থেকে ২৯ হাজার ২৯৭ খাতা, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৫ হাজার ৫৯৮ জনের আবেদন থেকে ৩০ হাজার ৭৩৬ খাতা পুনঃনিরীক্ষায় গেছে।

সিলেট বোর্ডে ১৩ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থী ২৩ হাজার ৮২ খাতা, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১২ হাজার ৭ জন শিক্ষার্থী ১৫ হাজার ৩৭৮ খাতা, মাদরাসা বোর্ডে ৭ হাজার ৯১৬ জন শিক্ষার্থী ১৪ হাজার ৭৩৩ খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। বরিশাল বোর্ডে আবেদনকারী মাত্র ৮ হাজার ১১ জন, খাতা ১৭ হাজার ৪৮৯টি।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, ইংরেজি ও আইসিটিতে আবেদন বেশি হয়েছে। কারণ লেখনিভিত্তিক প্রশ্ন ও ধাপে ধাপে মার্কিং পদ্ধতির কারণে ভুলের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।

পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নম্বর দেওয়া হয় না, শুধু গণনাগত বা ট্যাবুলেশনভিত্তিক ভুল সংশোধন করা হয়। ফল পুনঃনিরীক্ষণের পরে শিক্ষার্থীর নম্বর কমানো হয় না, বরং কোনো ভুল ধরা পড়লে কেবল বাড়ানো হয়।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, “পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নভিত্তিক নম্বর সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কি না এবং ট্যাবুলেশন শিটে সঠিকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে কি না তা যাচাই করা হয়। কোনো অতিরিক্ত উত্তরপত্র বা পৃষ্ঠা বাদ পড়েছে কি না সেটিও পরীক্ষা করা হয়।”

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত ফল শিক্ষার্থীর মোবাইলে এসএমএস ও বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন, পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ জন।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, “ফলকে হতাশার চোখে দেখা উচিত নয়। এটি শিক্ষার বাস্তব চিত্র, যেখানে বোঝাপড়া ও বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতার যাচাই করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে। স্কুল ও বাড়িতে অধ্যয়ন অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষকরা পাঠদান ছাড়াও শেখার কৌশল শিখাবেন, অভিভাবকরা নিশ্চিত হবেন সন্তান বোঝাপড়া করছে কি শুধু মুখস্থ করছে।”

ইএইচ

Link copied!