আমার সংবাদ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সকল ওয়ার্ড অফিস প্রাঙ্গণ শতভাগ ধোঁয়াযুক্ত এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) ও তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট)। একই সাথে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের খসড়াটি দ্রুত অনুমোদনেরও জোর দাবি জানিয়েছে তাবিনাজ। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন অফিসে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়। সভায় তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উবিনীগের গবেষক হাসানুল হাসিব আল গালিব।
অফিস প্রাঙ্গণে অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে অফিস প্রাঙ্গণ শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। GATS ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। পরোক্ষ ধূমপানের ফলে অসংক্রামক রোগ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় যেমন ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্ট্রোক, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, শিশুদের নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস, গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি, চর্মরোগ ও চুল পড়া।
বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন এবং বর্তমানে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত (টোব্যাকো এটলাস,২০২২)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্ক, ইউনিভার্সিটি অফ এডিনব্যার্গ এবং লিডস সিটি কাউন্সিলের জনস্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯২% শিক্ষার্থীর লালায় নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ বিস্তার নির্দেশ করে।
পরবর্তীতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উবিনীগ ও তাবিনাজ কর্তৃক কয়েকটি দাবি জানানো হয়
শতভাগ ধোঁয়াযুক্ত এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত ঘোষণা দেওয়া।
ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান (DSA)’ অনুমোদন না দেওয়ার অফিস আদেশ জারি।
অফিস এলাকায় সিগারেটসহ যেকোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা।
সিটি কর্পোরেশনের বাজেটে তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা, এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন ও প্রচার সামগ্রী যেমন- নো-স্মোকিং সাইনেজ, বিলবোর্ড ও লিফলেট তৈরি করা।
উক্ত আলোচনা সভায় সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব মো. শাহ আলম। তিনি বলেন, "কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ সকল অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তিনি আরও বলেন, "জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন শুধু কথায় নয় এ বিষয়ে আয়োজক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে শীগ্রই বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে হবে।"
বক্তারা বলেন, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অফিসে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এই স্থানে ধূমপান হলে অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানে আক্রান্ত হন। তাই সবার নিরাপত্তায় অফিস প্রাঙ্গণকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করা জরুরি।
উক্ত মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাসহ ২৭ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
ইএইচ