ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
সরকারি চাকুরেদের জন্য সুখবর

নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ

দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশন আজ বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছেন। 

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের সুপারিশে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিকেল পাঁচটায় এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে কমিশন এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।

সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার বর্তমান বেতন কাঠামোয় ধাপের সংখ্যা ২০টি থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২০তম ধাপে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১ম ধাপে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। 

এর আগে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ছিল ৭৮ হাজার টাকা যা নির্ধারিত ছিল। সেই তুলনায় নতুন কাঠামোয় বেতন প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের মতামত ও অনলাইন জরিপ এবারের বেতন কমিশন প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত আধুনিক ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। কমিশন সূত্র জানায়, প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনলাইনে একটি জরিপে অংশ নিয়েছিলেন। 

তাঁদের মতামত, বর্তমান বাজারের মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার মান, এই তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা যেন সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন, সেটিই ছিল কমিশনের মূল লক্ষ্য।

দুই ধাপে কার্যকর প্রতিবেদনে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের একটি সুনির্দিষ্ট সময়রেখা দেওয়া হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। 

অর্থাৎ, নতুন বছরের শুরুতেই পকেটে বাড়তি টাকা পাবেন চাকুরেরা। আর ২০২৬ সাতাশ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোটি পূর্ণ মাত্রায় কার্যকর হবে।

ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসব ও যাতায়াত ভাতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেওয়া হয়, কমিশন এটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে। আগে যাতায়াত ভাতা ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল, নতুন সুপারিশে এটি সম্প্রসারিত করে ১০ম ধাপ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে শহরের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো সহজ হয়। অন্যদিকে ১ম থেকে ১০ম ধাপের জন্য বাড়িভাড়ার হার কিছুটা পরিমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্যও কমিশন অত্যন্ত মানবিক ও উদার সুপারিশ করেছে। পেনশনের হারের ক্ষেত্রে তিনটি স্তর রাখা হয়েছে। যাঁরা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান তাঁদের পেনশন বাড়ছে প্রায় ১০০ শতাংশ। যাঁরা ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পান তাঁদের পেনশন বাড়ছে ৭৫ শতাংশ এবং যাঁরা ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান তাঁদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ।

চিকিৎসা ভাতার বিশেষ সুবিধা বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতায় ভিন্নতা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে এটি সাধারণত ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সামরিক ও বিচার বিভাগ সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী ধাপে সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন বা বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাদের জন্য স্বতন্ত্র কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই সুপারিশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয় তবে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এখন সবার দৃষ্টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

জেএইচআর

Link copied!