নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও কড়া বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ ভূমিতে ১০ লক্ষাধিক শরণার্থীর সসম্মান প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র কার্যকর পথ।
বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আইভো ফ্রেইজেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ড. ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো তুলে ধরে বলেন, এই সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, সুতরাং সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশে বছরের পর বছর শরণার্থী শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের অবস্থান কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। বরং এটি স্থানীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।
প্রধান উপদেষ্টা শরণার্থী শিবিরগুলোতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোতে এক বিশাল সংখ্যক তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে যারা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের এই যুগে তাদের এই ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও শুভকর নয়। এই তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে তাদের নিজ দেশে শান্তিতে ফেরার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে উঠে আসে সহায়তা তহবিলের ঘাটতি। আইভো ফ্রেইজেন জানান, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পরিমাণ আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবাগুলো বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পাশাপাশি আলোচনায় আসে নোয়াখালীর ভাসানচর প্রকল্প। সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনমান এবং তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও কথা হয়। প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তার ধারা অব্যাহত রাখতে ইউএনএইচসিআর-এর সক্রিয় ভূমিকা কামণা করেন।
বৈঠকে কেবল রোহিঙ্গা ইস্যু নয়, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন যে, একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অধ্যাপক ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল ত্রাণ সহায়তা দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মিয়ানমার সরকারের ওপর জোরালো কূটনৈতিক চাপ যাতে তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
এএন