ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলের গভীর পর্যবেক্ষণের মধ্যেই আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। 

রোববার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী দিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বেলা ১১টায় মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। বৈঠকের কর্মসূচিটি ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। শুরুতেই তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। সেখানে মূলত প্রশাসনিক ও কারিগরি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো স্থান পায়।

সচিবের সঙ্গে আলোচনা শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে যান। সেখানে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। তিনি বৈঠকটিকে অত্যন্ত 'ফলপ্রসূ' হিসেবে অভিহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, আলোচনায় দুই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলো নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। যদিও আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অংশীদার হিসেবে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে মার্কিন বিনিয়োগ এবং জিএসপি সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এই আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের পুনর্ব্যক্তকরণ এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একটি ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মতো একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিককে ঢাকায় পাঠানো এবং দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক প্রমাণ করে যে, ওয়াশিংটন ঢাকাকে তাদের দক্ষিণ এশীয় কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজকের এই দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং এটি ছিল পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি নতুন রোডম্যাপ তৈরির প্রয়াস। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সক্রিয়তা বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

এএন

Link copied!